আফরোজা আব্বাস

১৮ বছর রাজপথে যুদ্ধ করেছি, এখন মূল্যায়ন না হলে কষ্ট লাগে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকার পর নারীদের মূল্যায়ন না হলে কষ্ট থেকে যায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। এতে দেশের মানুষও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত র‌্যালির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আফরোজা আব্বাস বলেন, বিগত ১৮ বছর আমরা নারীরা রাজপথে যুদ্ধ করেছি। রাষ্ট্র ও দেশের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। এখন যখন দেখি আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, তখন অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে নারীরা আজ একটি নতুন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় যদি তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হয়, তবে তা হতাশার জন্ম দেয়।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত সবাই তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন পাবে।

নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য প্রসঙ্গে আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীর অধিকার, সমতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং উন্নয়নের নিশ্চয়তা—এসব বিষয় আজ আর শুধু স্লোগান নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ২০২৬ সালে এসে নারীর ক্ষমতায়নকে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই বার্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের অবহেলিত রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নারীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

jagonews24

মহিলা দলের সভাপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গার্মেন্ট শিল্প, যা মূলত নারীদের শ্রম ও অবদানে পরিচালিত হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অথচ তিনিই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছেন বলেও উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানান আফরোজা আব্বাস।

মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরী আরা সাফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি নিলুফার চৌধুরী মনি, জাহান পান্না, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহানা আকতার সানু, দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর নার্গিস, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মমতাজ আলম, মহানগর উত্তর সভাপতি রুনা লায়লা এবং দক্ষিণের সভাপতি রুমা আক্তার।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি নাইটিঙ্গেল মোড় ও কাকরাইল মোড় ঘুরে পুনরায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কেএইচ/এমআইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।