জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই নাই আমরাও নাই। জুলাই আছে আমরা আছি। জুলাই আছে, সরকার আছে। জুলাই আছে, বিরোধী দলও আছে। জুলাই নাই, কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না, ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য আবার জীবন দিতে হলে দেবো, ইনশাআল্লাহ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, সংগ্রামী সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং নাগরিক সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

সংসদে তার ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে, স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেবো, নেবোই না। যেটা না নিয়ে পারবো না সেটা নেবো। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। প্রায় ১৪০০ শহীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তারা কি কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ। তারা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

তিনি বলেন, কাল এই জায়গায় দাঁড়িয়ে জুলাই শহীদ পরিবার এবং যোদ্ধাদের সঙ্গে আমাদের একটা বৈঠক ছিল। সেখানে আমার প্রিয় সহকর্মী, সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ বলেছেন, আগামীর আন্দোলনের সঙ্গে নয়, সামনে থাকবো আমরা ইনশাআল্লাহ। এই সারির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, আমাদের সামনে পাবেন। আমিও কথা দিচ্ছি সামনে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও জানান, যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা প্রয়োজন, ততদিন তারা সংসদে থাকবেন, তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।

আন্দোলনের শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন শুরু করতে হবে এটা কী? এটাও আন্দোলনের অংশ। যেদিন আমরা নোটিশ মুভ করেছিলাম যে, সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে। আলোচনার পর যখন মেজোরিটির গায়ের জোরে এটাকে নাকচ করে দেওয়া হলো। আমরা সেদিন সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। এসে বলেছিলাম, জনগণের রায় নিয়ে, আমরা গণরায় বাস্তবায়নের জন্য এখানে এসেছিলাম। অন্যায়ভাবে এই রায়কে পদদলিত করা হয়েছে। এখন জনগণের রায় নিয়ে আবার জনগণের পার্লামেন্টে আমরা চলে যাচ্ছি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়। ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে, শহীদদের রক্তের সঙ্গে তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, আপনারা শুধু পাশে থাকবেন, দেশবাসী। এই আন্দোলন আমার জন্যে, আপনাদের জন্য, সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদের কারো গোলাম বানাতে চাই না।

আরএএস/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।