অবরোধ আর নেই : জমিরউদ্দিন সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৫

বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা অবরোধ আর নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার।

সোমবার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে আর কোনো স্ট্রাইক নেই।”

গত ৫ এপ্রিল গুলশানের কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ খালেদা জিয়ার নিজ বাসায় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই এই অবরোধ কর্মসূচি কার্যত নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

৫ জানুয়ারি থেকে ডাকা অবরোধ এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে হরতাল শুরুর পর সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই কর্মসূচির তাপ স্তিমিত হয়ে আসে।

মার্চের মাঝামাঝিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলে বিএনপিও ধীরে ধীরে এই ভোটের দিকে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও অবরোধ চলছে বলেই জানানো হয়।

বিএনপির যুগ্মমহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুর নামে আসা গত ২৯ মার্চের বিবৃতিতে অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়েছিল।

নিজের কার্যালয়ে অবস্থানরত খালেদা জিয়া তিন মাস পর গত ৫ এপ্রিল বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর অবরোধ চলছে কি না, তা স্পষ্ট করে বিএনপির কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য আসেনি।

তাই জমিরউদ্দিন সরকারকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন- অবরোধ কর্মসূচি এখনও রয়েছে কি না?

উত্তরে দলে সর্বোচ্চ ফোরামের এই সদস্য বলেন, “স্ট্রাইক আছে কি না, তা আপনারাই বুঝতে পারেন। এটা আমাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্ড।”

অবরোধ আছে কি না- আবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দেশে আর কোনো স্ট্রাইক নেই। এবার আপনারা বুঝে নিন।”

আসন্ন বার কাউন্সিল নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করতে দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসায় গিয়েছিলেন জমিরউদ্দিন সরকারসহ বিএনপির একদল আইনজীবী নেতা।

এদের মধ্যে ছিলেন মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নাল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, নিতাই রায় চৌধুরী, আফজাল এইচ খান, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, গোলাম মোস্তফা খান, তৈমুর আলম খন্দকার, সাইদুর রহমান প্রমুখ।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজবী সমিতির মতো বার কাউন্সিলেও এখনকার মতো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

মওদুদ বলেন, “আমরা ২/১ দিনের মধ্যে এই প্যানেল চূড়ান্ত করব। অতীতের মতো এবারও আমরা শক্তিশালী প্যানেল দেব।”

খালেদা জিয়া বার কাউন্সিল নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেলকে বিজয়ী করতে আইনজীবীদের মতভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

গত বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিতরা ১২টিতে বিজয়ী হয়েছিল। নির্বাচিতদের মধ্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, মাহবুবউদ্দিন খোকন ও সানাউল্লাহ মিয়াও রয়েছেন।

আগামী ২০ মে আইনজীবীদের বিধিবদ্ধ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।