সমৃদ্ধির মহাসড়কে স্থান নেই খালেদার : তথ্যমন্ত্রী


প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ২৭ জুন ২০১৫

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে গণতন্ত্রের অচল মাল হিসেবে অভিহিত করে দেশের সমৃদ্ধির মহসড়কে তার কোনো নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, উন্নয়ন সমৃদ্ধির রাজনীতি থেকে খালেদা নিজেই নিজেকে খরচের খাতায় নিয়ে গেছেন তাই আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণেরও কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তির নির্বাচন। সেই নির্বাচনে গণতন্ত্রের অচল মাল সচল করার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ারও অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে সুযোগ দিলে গণতন্ত্রে দুর্যোগ নেমে আসে। গণতন্ত্রে ছোবল মারে। যেমনটি মারছে জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদীরা। তিনি বলেন, সাজানো বাগানে শুকর ছেড়ে দিলে সেই বাগান তছনছ করে দেয়। বর্তমানে গণতন্ত্রে কোনো ঘটতি নেই, আছে বিষফোরা। গণতন্ত্রের বিষফোরা জামায়াত-জঙ্গিরা। এসব বিষফোরা ছোট-খাটো অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দিতে হবে। এতে আমাদের একটু কষ্ট হবে। তবে আমরা এদের কোনোভাবেই ছাড় দিতে পারি না।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। তাতে বাংলাদেশে পাকিস্তান মার্কা, সামরিক সরকার মার্কা, জামায়াত মার্কা রাজনীতি আর হবে না। দিন শেষ। দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার রাজনীতি আর হবে না। শেখ হাসিনা দেশকে যে সমৃদ্ধির মহাসড়কে টেনে তুলেছেন সেই মহাসড়কে খালেদা জিয়ার জায়গা নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প ‘আগুন-সন্ত্রাসী’ কখনই না। গণতন্ত্র উন্নয়ন সমৃদ্ধির রাজনীতি থেকে খালেদা নিজেই নিজেকে খরচের খাতায় নিয়ে গেছেন।

খালেদাকে জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আপনি না বুঝলেও দলের নেতা-কর্মীরা, ও জনগণ বুঝে গেছে। এটাও বুঝে গেছে আপনি যতই লম্ফঝম্প করেন না কেন আগুনে মানুষ পোড়ানোর অপরাধে জনগণের আদালত থেকে রেহাই পাবেন না। আপনি যতই কৌশল বদলান না কেন, যতই মোদির সঙ্গে করমর্দন করেন না কেন আপনার রাজনীতির ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে। আপনাকে রাজনীতির বাইরে থাকতে হবে এবং আদালতের বারান্দায় যেতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে ফ্যাশান করে বলেন গণতন্ত্রে ঘাটতি আছে। গণতন্ত্র মাপবেন কী দিয়ে? বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়ে? এখানেও গণতন্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের স্বর্ণযুগ পালন করছি।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে ইনু বলেন, শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যে চুক্তি এবং সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন তার কোনো চুক্তি স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধী, অর্থনীতিবিরোধী আপনি (খালেদা) বলুন। আপনি কাল যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে কোন চুক্তিটি বাতিল করবেন বলুন। আপনি একটিও বাতিল করতে পারবেন না। কারণ এসব চুক্তি দেশের জনগণের স্বার্থেই হয়েছে।

খালেদাসহ যারা এনিয়ে সমালোচনা করছেন তারা হয় বোকা-মুর্খ আর না হয় জ্ঞানপাপী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরো কয়েক বছর দেশ পরিচালিত হলে এই সংসদে সাত লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হবে বলেও দাবি করেন হাসানুল হক ইনু।

এইচএস/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।