মিছিলের মোহনা ইলিশ বাড়িতে
মেঘনা-ডাকাতিয়ার কলতানের সঙ্গে মিশে থাকা মানুষের জীবন, তার সঙ্গে সবুজ ঘেরা প্রকৃতির দান। ভোরের পাখির কিচিরমিচিরে ঘুম ভাঙে পূব আকাশে সূর্য উদিত হওয়ার ক্ষণে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাক-ঢোলের তালের নৃত্য।
এই পরিবেশ ত্রি-মোহনার বুকে জেগে থাকা জনপদের শহর চাঁদপুরের। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার আসছেন ইলিশের বাড়ি। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বরণেই এত আয়োজন।
রোববার সকাল থেকে ঢাক-ঢোলের তালের নৃত্যে মেতে ওঠে চাঁদপুর শহর। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে শহরের অলি-গলি। তার সঙ্গে উচ্চ শব্দে বাজতে থাকে ভুভুজেলা। রোববার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে মিছিলের পদচারণা।

‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন স্টেডিয়ামে।
এই স্টেডিয়ামেই জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চাঁদপুরবাসীর হাতে তুলে দেবেন ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। ভোটের ওয়াদা চাইবেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। প্রতিশ্রুতি দেবেন চাঁদপুরবাসীর জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করার।

শহরের মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় শতাধিক। ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে স্বাগতম’ লেখা তোরণ। তোরণে উপর শোভা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।
পুরো শহর ছেঁয়ে গেছে হরেক রকম ব্যানার-ফেস্টুনে। দীর্ঘ ৮ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকে জাঁক-জমকপূর্ণ করতেই যেন সব আয়োজন। স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে পথে শুধু তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন।
‘নদী ভাঙ্গন রোধে চাঁদপুর-হাইমচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ’ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্যানার করেছেন কেউ কেউ।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উক্তি শোভা পাচ্ছে এসব ব্যানার-ফেস্টুনে। সেগুলোতে প্রচারণায় পিছিয়ে নেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।
বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানানোর পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ব্যানারে।
এইউএ/এমএমজেড/এমএস