‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণের বিজয় সরকারের পরাজয়’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০১৮
‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণের বিজয় সরকারের পরাজয়’
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা ব্যবস্থা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে সরকারের পরাজয় এবং জনগণের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। কোটা আন্দোলনের মতো গণআন্দোলনের মাধ্যমে দলীয় দাবি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েন : নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা’শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ আহমেদ বলেন, এখন দেখলাম উনি (প্রধানমন্ত্রী) ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশে কোনো কোটা ব্যবস্থা থাকবে না, এতে জনগণের বিজয় হয়েছে। সরকারের পরাজয় হয়েছে। এই ভাবে আগামীতে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, এইমাত্র শুনলাম যে প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন যে এই কোটা আন্দোলন কত বেগবান হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছেন যে এই আন্দোলন যদি চলে তাহলে তো তাদের ক্ষমতায় থাকাটা কঠিন হবে। তাদের একেকজন মন্ত্রী একেক কথা বলেছেন। কোটা আন্দোলন সম্পর্কে নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, আজকে আমি একটা বিরাট মিছিল দেখলাম। এত বড় মিছিল আমি গত ২৫/৩০ বছরে দেখি নাই। বাংলাদেশ হওয়ার আগে ৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় দেখেছিলাম। এক ঘণ্টা লেগেছে ওই মিছিলটা যেতে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকল ছাত্রছাত্রী, ছাত্রীদের সংখ্যাই তো আমার কাছে মনে হলো ২, ৩, ৫, ১০ হাজার হবে। প্রথম দিকে ছাত্রীরা ছিল, পরে ছাত্ররা। তিনি বলেন, এটা কেন? কিসের জন্য? এই যে কোটা আন্দোলন, কোটা আন্দোলনকে আমি কিভাবে দেখি বলি, এই কোটা আন্দোলন ছাত্র সমাজের এই সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের একটি প্রতিফলন ঘটেছে। এটা শুধু কোটা নয়। তাদের মনে অনেক ক্ষোভ। কারণ তারা তো ছাত্র-ছাত্রী। তারা তো দেখছে, দেশ কিভাবে চলছে, দেশে কি ধরনের গণতন্ত্র আছে তারা তো বোঝে।

মওদুদ আহমেদ আরও বলেন, আজকে কোটাকে কেন্দ্র করে এই যে আন্দোলন এটার অনেক গভীর একটা তাৎপর্য আছে বলে আমি মনে করি। এর মধ্য দিয়ে পুরো ছাত্র সমাজ, সারা দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে এই কোটা আন্দোলনের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা জানার আগে মওদুদ আহমেদ বলেন, কোটা আন্দোলনের যে দাবি তা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত, অনেকে সমর্থন দিচ্ছেন। সরকার পক্ষের বুদ্ধিজীবীরাও বলছেন দাবিতে যুক্তি আছে। আমাদেরও দাবি থাকবে কোটা আন্দোলনের দাবি সম্পূর্ণ মেনে নেয়া হোক এবং তাদের আশ্বস্ত করা হোক ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক মেধাভিত্তিক প্রশাসন থাকবে। যাতে বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকা যায়।

সরকারবিরোধী এই নেতা আরও বলেন, ‘সরকার হয়তো আজ বা কালের মধ্যে কোটা আন্দোলন সম্পূর্ণ মেনে নেবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন এমন দাবি করে বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব। নির্বাচনের অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, তার মুক্তি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। যে নামেই হোক না কেন নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে এবং তফসিল ঘোষণার পর শিগগিরই সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কারাবন্দী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারি যে মেডিকেল বোর্ড তাতে আমাদের এবং নেত্রীর আস্থা নেই বলে জানান বিএনপির এই নেতা। আইন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দাবি করে তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুর এক সময়ের এই ঘনিষ্ঠ সহচর বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের ইতিহাসে চিরদিনের জন্য কলঙ্কিত হয়ে থাকবে তাদের প্রথম শাসন আমলের জন্য। তাদের সময়ে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছিল, মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। এই কলঙ্ক থেকে আওয়ামী লীগ কখনও মুক্তি পাবে না। সেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল দুর্নীতির কারণে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অদক্ষতার কারণে তাদের দুর্নীতি হয়েছিল। তিনি বলেন, তারা যখন যেমন, তখন তেমন, তাদের নীতি নৈতিকতা বলে তেমন কিছু নাই। নীতিবিহীন, নৈতিকতাবিহীন কোনো রাজনীতি বাংলাদেশে বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না।

লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি এস এম ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। অন্যদের মধ্যে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

কেএইচ/ওআর/পিআর