আ.লীগের নিবন্ধন থাকা উচিত কি না, প্রশ্ন রিজভীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮
ফাইল ছবি

রাজনৈতিক দল হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন থাকা উচিত কি না- সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনাদের লোক কর্তৃক এত খুন-জখমের পরও কি আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন থাকা উচিত?’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারের টিকে থাকার মূল ভিত্তিই হচ্ছে সহিংস সন্ত্রাস। মূলত শেখ হাসিনা বিএনপি দলটিকেই নিশ্চিহ্ন করার খেলায় মেতে উঠেছেন। তা না হলে তার গদিরক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। শেখ হাসিনার মনে ন্যূনতম সাহস নেই, আছে শুধু ভয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়।’

রিজভী বলেন, ‘২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় বিরোধী দলের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে উচিত-অনুচিতের নানা বিষয় রায়ের পর্যবেক্ষণে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয়া উচিত কিনা সেটা উল্লেখ করা হয়নি। তোমরা চুড়ি পরে থাকো, আমাদের ১টা মারলে ওদের ১০ জনকে মারতে হবে- বিরোধী দলের প্রতি এই বিপজ্জনক হুমকি কি একজন প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেন?’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবকেও বলতে চাই- বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য কি বিশ্বশান্তি সম্মেলনের বাণী? সরকারের হুকুমে প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিনাবিচারে মানুষ হত্যার হিড়িক চলছে- এই হিড়িক কি উন্নয়নের নমুনা নাকি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস? এগুলো রায়ের পর্যবেক্ষণে না থাকলেও এর দায় তো বর্তমান সরকারের কাউকে নিতেই হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দর্পী মানসিকতা কেন রায়ের পর্যবেক্ষণে আসেনি?’

রিজভী আরও বলেন, ‘সাগর-রুনীসহ ৩৩ জন সাংবাদিককে হত্যার দায় কার? এটা কেন রায়ের পর্যবেক্ষণে আসেনি? বোমা হামলা শুরুই হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে। যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, রমনা বটমূলে বোমা হামলা, কমিউনিস্ট পার্টির জনসভায় পল্টনে বোমা হামলাসহ অসংখ্য বোমা হামলা হয়েছে আওয়ামী লীগের শাসনামলে। তাহলে এগুলোর রায়ের পর্যবেক্ষণে এলো না কেন? এগুলোর জন্য আওয়ামী লীগ কেন দায়ী নয়?’

দেশব্যাপী গায়েবি মামলার পর এখন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাইকারিহারে গ্রেফতার শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন অভিযোগ করে রিজভী আরও বলেন, গতকাল সারা বাংলাদেশ থেকে মোট ১১টি গায়েবি মামলার এজাহার পাওয়া গেছে। এরমধ্যে এজাহারে ১১৭৩ জনকে এবং অজ্ঞাত ২৬৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, মৎস্যজীবী দল নেতা আরিফুর রহমান তুষার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :