ইশতেহার এখন ‘কথার কথা’

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিশ্রুতির বন্য বইছে। প্রতিশ্রুতি, পাল্টা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন পেতে চাইছে। উন্নয়ন-তরুণবান্ধব ইশতেহার ঘোষণা করেছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং আন্তরিকতা নিয়ে।

অনেকেই মনে করেন, ইশতেহার এখন ঐতিহাসিকভাবেই ‘ঘোষণা’য় সীমাবদ্ধ। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলগুলো এ যাবতকাল সরকার গঠন করেছে, তার অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করেনি। প্রতিজ্ঞার আড়ালে চাপা পড়ে প্রতিজ্ঞা। তবুও ঘুরেফিরে ইশতেহারেই যেন আটকে থাকে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি।

‘ইশতেহার রাজনীতি’ কেমন দেখছেন- এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের কাছে।

জাগো নিউজের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচন এলে রাজনৈতিক দলগুলো যে মেনোফেস্টো বা ইশতেহার ঘোষণা করে, তাতে জনগণের খানিকটা আগ্রহ থাকতে পারে, কিন্তু আস্থা আছে কি-না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

‘আমরা যদি অতীতের নির্বাচনগুলোর ইশতেহারের দিকে লক্ষ্য করি, দেখব প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ভালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। যারা ক্ষমতায় আসে, তারা তখন সব ভুলে যায়’- যোগ করেন তিনি।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ইশতেহার এখন ঘোষণাতেই আটকে থাকছে। ইশতেহার এখন কথার কথা। এছাড়া উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। উন্নয়ন হচ্ছেও। কিন্তু সেই উন্নয়ন সমাজে আরও বৈষম্য বাড়াচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তো দৈন্যদশায় পড়েছে। সমস্যা চিহ্নিত হবে কীভাবে, সমাধান করা যায় কীভাবে তার কোনো ইঙ্গিত নেই ইশতেহারগুলোয়।

তিনি আরও বলেন, একই ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না এবং সংসদে উচ্চকক্ষের মতো বিষয়গুলো একটি জোটের ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন এই বিষয়কে ইতিবাচকভাবেই দেখতে চাই। আর সব বিষয়গুলো পুরনো বলে মনে হয়েছে। বৈষম্য, বেকারত্ব, আর্থিক বিশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতিরোধে কী করণীয় তার কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেয়া হবে কি-না তার ইঙ্গিত নেই।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষ এগিয়ে যেতে চাই। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটছে এবং তা মূলত সাধারণ উদ্যোগী মানুষের জন্যই হচ্ছে। বরং রাজনীতি সাধারণ মানুষের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। উদ্যোগী মানুষের সুরক্ষা হতে পারে কীভাবে, তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি দলগুলো। এ কারণে ভালো ভালো কথার নীতিমালা সাজিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে সাধারণ মানুষ আস্থা রাখে বলে মনে করি না। মূলত বিশ্বাস ভঙ্গের কথামালা হচ্ছে ‘ইশতেহার’।

এএসএস/জেএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]