তারেককে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৭ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রোববার দুপুরে সহকারী জজদের ৩৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ড. কামাল সকালে বলেন এক কথা, আর বিকেলে বলেন আরেক কথা।’

আপিল বিভাগে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অনেক দিন শুনানি হচ্ছে না- সাংবাদিকরা এ বিষয়টি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব যেগুলো পেন্ডিং আছে আপিল বিভাগ দ্রুত সেগুলো শুনানির উদ্যোগ নেবে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো অপরাধী যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা খাটানোর ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত তৎপর।’

অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সে বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের ভালোভাবে বুঝাতে পারলে তারা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেবেন এবং সেই চেষ্টা করবেন।’

আনিসুল হক বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয় সেসব দেশের আদালতগুলো এবং এ পরামর্শের কারণে সেখানে শতকরা ৯০ ভাগ বিরোধ/মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এভাবে তাদের জুডিসিয়ারির ওপর চাপ কমে আসছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কেবল আইনের শাসনই নয়; অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র্য দূরীকরণেও জুডিসিয়ারি বিশেষ করে কোয়ালিটি জুডিসিয়ারির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই জনগণকে কোয়ালিটি জুডিসিয়ারি উপহার দেয়ার লক্ষ্যে সরকার বিচার বিভাগকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মামলা জট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরিব-দুঃখি-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রই হলো বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। মোটকথা বিচারপ্রার্থী জনগণের অল্প সময়ে, অল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিছক গতানুগতিক বা দায়সারা ভাব পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’

বিচারকদের বিন্দুমাত্র লোভ কিংবা অসততার কারণে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিচারকদের পেশার গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করেই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

দেশ মাতৃকা ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে একাত্তরে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল বলেই আমরা একেকজন আজ বিভিন্ন উচ্চতর পদে আসীন হতে পেরেছি। বিচারকরাও এর বাইরে নন।’

তাই পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের উন্নয়ন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের সমর্থন তো দূরের কথা, এ রূপ চিন্তারও যাতে উদ্রেক না হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বিচার বিভাগের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

এফএইচ/এনএফ/এনডিএস/এমএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :