নাগরিক ভোগান্তি কমাতে ইশরাক হোসেনের ১০ দিনের কর্মসূচি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩০ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন/ফাইল ছবি

পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে ১০ দিনের জরুরি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রমজান ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জনদুর্ভোগ লাঘব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিশেষ রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

প্রথম ১০ দিন (তাৎক্ষণিক কার্যক্রম)

১. গ্যাস সংকট ব্যবস্থাপনা
• রমজান মাসে দ্রুত বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
• সংযোগজনিত সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের জন্য তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীদের মাঠে নামানো হবে।
• গ্যাস লোড বৃদ্ধির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

২. আইন ও শৃঙ্খলা
• প্রতিরোধমূলক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা-৬ আসনের থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
• নিরাপদ পাড়া-মহল্লা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টহল জোরদার ও পুলিশ ফাঁড়ি সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে।
• ছিনতাই, চুরি ও রাস্তার অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

৩. মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান
• মাদক স্পটসমূহ বন্ধ করা হবে।
• মাদকের উৎসস্থল নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে মাদক রুট বন্ধ করা হবে।
• মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে অবস্থানরত মাদক ব্যবসায়ীদের ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ
• স্থানীয় বাজারে গোপন ও কঠোর নজরদারি চালু থাকবে।
• মুনাফাখোরদের পণ্য মজুত সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে ধারাবাহিক তল্লাশি চালানো হবে।
• ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহকে ডেকে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হবে।
• আকস্মিক খুচরা ও পাইকারি বাজার পরিদর্শন এবং ডিএসসিসি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

৫. যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
• ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে কার্যকর সমাধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
• গণপরিবহনের চরম বিশৃঙ্খলা রোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে।
• গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ইন্টারসেকশন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে এবং এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে।
• অবৈধভাবে পার্ক করা যানবাহন সড়ক থেকে অপসারণ করা হবে।
• অবৈধভাবে দখলকৃত ফুটপাত দখলমুক্ত করে সর্বসাধারণের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ঈদের আগে ও পরবর্তী ধারাবাহিক কার্যক্রম (প্রাধান্য স্তর–২)
• ওয়ার্ডভিত্তিক সড়ক ও সড়কপৃষ্ঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
• অবৈধ স্থাপনার মাধ্যমে সড়ক দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
• খোলা নর্দমা ও ড্রেনের সমস্যা শনাক্ত করে স্ল্যাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে।
• ওয়ার্ডভিত্তিক আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা করে ব্লক অপসারণ করা হবে।
• সড়কের পাশে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা রোধ করে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
• ডিএসসিসির বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে।
• বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে সংযোগ দেওয়া হবে।
• স্ট্রিট লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে এবং নষ্ট লাইট পরিবর্তন করে এলাকা আলোকিত করা হবে।
• নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার, ঝাড়ু দেওয়া এবং ধুলোপ্রবণ এলাকায় পানি ছিটানোর কার্যক্রম চালু করা হবে। এ কার্যক্রম গবেষণাভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কাঠামো
এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে থানা পুলিশ, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংস্থা, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাজার মনিটরিং ম্যাজিস্ট্রেট, ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।