দেশে কিছু হলেই বিএনপির দোষ : দুলু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৯

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।

শনিবার রাজশাহীতে বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমরা বগুড়ায় সমাবেশ করেছি, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে করেছি এবং পর্যায়ক্রমে আমরা রাজশাহীতে এসেছি। এটা চলতে থাকবে। আপনারা জানেন আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে মৃত্যুর সঙ্গে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেগম জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন নাটক শুরু করেছে সরকার।

দুলু আরও বলেন, কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন প্যারোলের আবেদন করলে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। অথচ সেই নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে নাটক করছে সরকার। ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে তারা।

দুলু বলেন, একজন নেত্রীকে বিনাচিকিৎসায় রাখা হয়েছে। অথচ তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাকে আইনের মাধ্যমে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আন্দোলন করেই আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই। কিন্তু আমরা আন্দোলন করলে সরকার বলে বিএনপি নাকি সন্ত্রাসী দল। দেশে কিছু হলেই বিএনপির দোষ। আবার আন্দোলন না করলেও বিএনপি ঘরে ঢুকে গেছে, বিএনপির শক্তি নাই বলে বেড়ায় তারা। সরকারকে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, অনেক সুযোগ দিয়েছি। সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। আঙুল বাকা করতে হবে।

দুলু আরও বলেন, দলকে আবারও নতুনভাবে তৃণমূল পর্যায় সাজাতে হবে। যারা ত্যাগী, সাহসী, অতীতে জেল-জুুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। যারা ভয় পায় না, আমরা এ ধরনের সাহসী নেতাকর্মীকে দলে রাখতে চাই। তৃণমূল থেকে দলকে সংগঠিত করে এ সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা নেত্রীকে জেলখানা থেকে বের করে আনতে চাই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এ নির্বাচন পাতানো নির্বাচন। এটা ষড়যন্ত্রের নির্বাচন। ১৯৭০ সালে মানুষ যেভাবে পাকিস্তানকে বয়কট করেছিল। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে একইভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এদেশের মানুষ। যখন তারা বুঝেছে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে বয়কট করে ধানের শীষকে ক্ষমতায় আনবে তখন প্রশাসন-পুলিশ দিয়ে ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করে আমাদের বিজয় ঠেকিয়ে দিয়েছে।

বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামরুল মনির। রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মন্টু।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :