বাজেটের অধিকাংশ বিদেশিদের ঋণ পরিশোধে যায় : নজরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১১ পিএম, ১৫ মে ২০১৯

একটা সময় দেশের বাজেটের বরাদ্দের অধিকাংশ স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা বিদেশিদের ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয় বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ ভাসানী) উদ্যোগে ‘৪৩তম ফারাক্কা লংমার্চ দিবস এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক মহাসঙ্কট উত্তরণে মাওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে ঋণ বেড়েই চলেছে। কিছু দিন আগে পত্রিকায় পড়লাম বর্তমানে দেশে প্রতিটি শিশু গড়ে ৬০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে হলে বর্তমান সরকারের পতন দরকার।

তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। আজ আমরা আরেকটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করছি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। কারণ মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম যে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের শান্তির জন্য- তা আজ আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি আরও বলেন, এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে আন্দোলন দরকার তার একমাত্র যোগ্য নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মুক্তি শুধুমাত্র একজন নেত্রীর মুক্তি নয়, একজন ব্যক্তির মুক্তি নয়, তার মুক্তি মানে দেশের গণতন্ত্রর মুক্তি। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে আগে মুক্ত করতে হবে তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে কৃষক তার নিজের ফসলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। কারণ সে জানে, সেই ফসল কেটে ঘরে তুলে আনলে তার লোকসান হবে। শুধু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা নয়, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদেরকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে,আন্দোলন করতে হচ্ছে, এ কোন দেশে আমরা বাস করছি?

তিনি আরও বলেন, এই দেশে আগে মা-বোনদের এত ধর্ষণ ও নির্যাতনের কথা শুনি নাই। এর বিচার না পেয়ে নিজে আত্মহত্যা, পিতা কন্যা সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করছে। কী হচ্ছে দেশে? বেকারত্ব বেড়ে চলেছে, মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। মানুষের কষ্ট, জিনিসপত্র দাম বেড়েই চলেছে। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জিনিসপত্র দাম কমছে, মানুষ শান্তিতে আছে। আসলে আমার মনে হয়, এসব মন্ত্রীরা কখনও বাজার ঘুরে দেখেন না। মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কষ্টগুলো বোঝেন না, দেখেন না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষায়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

কেএইচ/এমএমজেড/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :