‘পরিবারে পাঁচ সন্তান থাকলে একটা কুলাঙ্গার হয়’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘একটা পরিবারে পাঁচ সন্তান থাকলে তার একটা কুলাঙ্গার হয়। সে কখনও ভালো কাজ করে না। পরিবারের কোনো কথা শোনে না। এই কুলাঙ্গার সন্তান পরিবারে বা সমাজের কোথাও মর্যাদা পায় না। সবাই তাকে ঘৃণা করে।’

বুধবার আওয়ামী লীগের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘মুজিববর্ষ’উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন ও কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে আমির হোসেন আমু বলেন, ভারতের মহাত্মা গান্ধীর জন্মশতবার্ষিকীতে বিজেপি একটি চরম মৌলবাদী দল হয়েও বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করেছে। জাতির পিতার ক্ষেত্রে কর্মসূচি পালন করতে তাদের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল না। অথচ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে বিএনপি ও জামায়াতের কোনো কর্মসূচি নেই।

তিনি বলেন, যারা সবসময় স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে, বাংলাদেশকে মানে না, তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যে জোয়ারের সৃষ্টি হবে তার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের মতো অপশক্তিগুলো একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা-পূর্ব রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন, শাসক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কেমন ছিল- এগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করি না। বঙ্গবন্ধু একজন ভালো শাসক ছিলেন।

‘সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু অনেক আগেই চিন্তা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে অন্য কারও চিন্তা ছিল না। কৃষকদের জন্য তিনি ভূমি সংস্কার ও সমবায়ের মতো শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। একইভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য তিনি দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এ দিকনির্দেশনাগুলো যে যার পক্ষ থেকে তুলে ধরলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেমন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন সে সম্পর্কে জানতে পারবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াস সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজ ভান্ডারি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ফুটবলার বাদল রায়, ডা. এম এ আজিজ, ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, প্রকৌশলী এ কে এম আবদুল মোতালিব, অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এফএইচএস/এমএআর/পিআর