সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির ৩৫ টিকিটের দৌড়ে শতাধিক মুখ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন তাদের প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা/ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের রেশ কাটতে না কাটতেই দলীয় অন্দরে আরেক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে কে পাচ্ছেন বিএনপির টিকিট।

দৌড়ে শতাধিক নেত্রী
সাধারণ নির্বাচনে ২০৯ আসন পাওয়ায় সংরক্ষিত ৫০ আসনের মধ্যে ৩৫টি যাচ্ছে বিএনপির ঝুলিতে। সেগুলো পেতে শুরু হয়েছে দৌড়। দলীয় সূত্রের দাবি, শতাধিক নেত্রী এরই মধ্যেই সক্রিয় হয়েছেন। কেউ ঢাকায় ডেরা ফেলেছেন, কেউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টানা যোগাযোগ রাখছেন। আর নির্বাচন কমিশন রোজার মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সারতে চায়। ফলে সময় কম, চাপ বেশি। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে, হিসাব কষা চলছে। কিন্তু শেষ কথা বলবে হাইকমান্ডই। এখন প্রশ্ন একটাই- কারা পাচ্ছেন সংসদে যাওয়ার টিকিট?

প্রথম সারির নামগুলো
বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী- তাদের নাম শোনা যাচ্ছে জোরালভাবে।

সাবেক এমপিদের তালিকা
তাদের মধ্যে আছেন শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না ও বিলকিস ইসলাম।

তরুণ মুখ, আইনজীবী ও সংগঠক
এক্ষেত্রে আলোচনায় আছেন মাহমুদা হাবিবা, নিপুণ রায় চৌধুরী, শাহানা আক্তার শানু, আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শওকত আরা ঊর্মি, নাসিমা আক্তার কেয়া, মনিরা আক্তার রিক্তা, আফরোজা খানম নাসরিন, বীথিকা বিনতে হুসেইন, রুকসানা খানম মিতু, আইসা সিদ্দিকা মানি, হেনা আলা উদ্দিন, ফরিদা ইয়াসমিন, সালমা আক্তার সোমা, শাহিনুর নার্গিস ও শাহিনুর বেগম সাগর।

রাজনীতি ছাড়িয়ে অন্য অঙ্গন
শুধু দল ও অঙ্গ সংগঠন নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও নাম পাওয়া যাচ্ছে। এ তালিকায় আছেন কনক চাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও সাংবাদিক সাবরিনা আহমেদ শুভ্রা।

আলোচনায় আরও যারা
রওশন আরা রত্না, রহিমা আক্তার হাসি, হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ, অপর্না রায়, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, তানজিন চৌধুরী লিলি, সানজিদা ইসলাম (তুলি), ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, হাসিনা আহমদ, শাকিলা ফারজানা, ফাতেমা বাদশা, মনোয়ারা বেগম মনি, জেলী চৌধুরী, মেহেরুন নেছা নার্গিস, জান্নাতুল নাঈম রিকু, জেসমিনা খানম, নাজমা সাঈদ ও সুলতানা পারভীন।

ত্যাগ বনাম তারুণ্য
বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক সদস্য জানান, যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও আঞ্চলিক ভারসাম্য- সব মিলিয়েই চূড়ান্ত হবে তালিকা। তরুণ নেতৃত্বের মূল্যায়নের ইঙ্গিতও মিলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী জানান, বিগত ১৭ বছর যারা রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম, জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে প্রাধান্য দিলে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি শক্ত হবে।

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বলেন, ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েছেন। দল উপযুক্ত মনে করলে তিনি সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

চট্টগ্রামের জেসমিনা খানম বলেন, দীর্ঘ দমন-পীড়নের মধ্যেও দল ছাড়েননি। নারীদের মূল্যায়ন হলে সংগঠন আরও শক্ত হবে।

কেএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।