নির্বাচনী আচরণবিধি মানলেই করোনা সতর্কতা হয়ে যাবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০২:০৩ এএম, ২০ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে সে আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, ওয়াজ-মাহফিলসহ জনসমাগম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা। অথচ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মানলেই নাকি করোনা সতর্কতা ‘অটোমেটিকলি’ হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন- নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু প্রমুখ।

বিশ্ব ও বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তুলে ধরে সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামত জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখনও নির্বাচন কমিশন বলে নাই যে নির্বাচন স্থগিত আছে। স্থগিত না থাকা পর্যন্ত আমরা অবশ্যই করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতা আছি। আমরা মাস (অধিক সংখক) যে গ্যাদারিং হয় সেটাতে থাকব না, সেভাবে না থেকে আমরা ডোর টু ডোর যাব। আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন উপায়ে প্রচারণা চালাব।’

পাশ থেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আচরণবিধি অনুযায়ী আমরা এমনিতেই ব্যাপক জনসমাগম করতে পারি না। এখন আমরা যদি আচরণবিধি মেনে চলি তাহলে করোনাভাইরাসের যে সতর্কতামূলক অবস্থান...’

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘সেটা অটোমেটিকলি হয়ে যাবে (আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণা চালালে করোনাভাইরাসের যে সতর্কতা সেটা অটোমেটিকলি হয়ে যাবে)।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আরও বলেন, ‘আর কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে যে কথাটা বলা হচ্ছে, যাদের উপসর্গ দেখা যায় তাদের কোয়ারেন্টাইন। আমাদের যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সেটা বন্ধ করে দেয়ার কথা তো বলা হয় নাই। আমাদের সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে, এর মধ্যে আমি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেব। আমার জনজীবন বিপন্ন করে, সবকিছু বন্ধ করে ঘরে বসে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয় নাই।’

যদিও ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জনসমাগম না করার কথাও বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশ, ওয়াজ-মাহফিলসহ জনসমাগম হয় এমন যেকোনো অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য মাঠপ্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও কেন নির্বাচন?

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বী মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমরা এ নিয়ে বলছি। প্রতিটি মিটিংয়ে এ বিষয়ে বলা হচ্ছে, কিন্তু নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যারকেও অবহিত করা হয়েছে।’

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় গণজমায়েত ও মিছিল-সমাবেশ এড়িয়ে চলার জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন মানে মিছিল, শোডাউন, গণজমায়েত। এবার জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় এটা অবশ্যই বিসর্জন দিতে হবে। ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি কিছু সামষ্টিক প্রস্তুতিও নিতে হবে। এই মুহূর্তে করোনার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ‘এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কথা বলার বলার এখতিয়ার নেই’ বলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্তত ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। দেশে এখন পর্যন্ত ১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আবু আজাদ/বিএ