শেখ হাসিনার ‘সবাইকে নিয়ে চলো’ নীতি বঙ্গবন্ধুই শিখিয়েছেন : রাদওয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিগত দশ বছরে প্রতিষ্ঠালগ্নের নীতিতে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নে সহায়তা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পলিসি ম্যাগাজিন হোয়াইটবোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা রাদওয়ান মুজিব আরও জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবাইকে নিয়ে চলো’ নীতি বঙ্গবন্ধুই প্রথম গ্রহণ করেছিলেন।

সদ্য শুরু হওয়া হোয়াইটবোর্ড নীতি নির্ধারক ও তরুণদের জন্য বস্তুনিষ্ঠ ও স্পষ্ট বার্তা দেবে বলে জানান ম্যাগাজিনটির প্রধান সম্পাদক রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

হোয়াইটবোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবীদের জন্য একটি অবস্থান তৈরি করছে হোয়াইটবোর্ড। পাশাপাশি বিদেশে থেকে বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাওয়া মানুষগুলোর জন্যও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কাজ করে যাবে হোয়াইটবোর্ড।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হোয়াইবোর্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এই ম্যাগাজিনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে বিস্তর পর্যালোচনা করবে।

এই ম্যাগাজিন মূলত তরুণদের জন্য জানিয়ে রাদওয়ান মুজিব বলেন, আমরা আমাদের মূল পাঠক তরুণদের কথা শুনতে সর্বদা প্রস্তুত।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামিয়া হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ম্যাগাজিনের সহ-সম্পাদক সৈয়দ মফিজ কামাল। সম্পাদকীয় উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য সামিয়া হক।

‘কেন হোয়াইটবোর্ড আত্মপ্রকাশের সঠিক সময় এটি’-তার ব্যাখ্যায় এডিটরস নোটে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক লেখেন, ‘আমরা এখন কেন এই উদ্যোগ নিলাম? কারণ তরুণদের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নতি করছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশের তালিকায় স্থান পেতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু আমাদের দেশে কী হচ্ছে তার তথ্যনির্ভর কোনো বিশ্লেষণ নেই।’

‘আর সে কারণেই হোয়াইটবোর্ডের যাত্রা শুরু। দেশে ও দেশের বাইরে থাকা শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রফেশনাল, নীতিনির্ধারক ও বাস্তবায়নকারীদের উদ্দেশে বাংলাদেশের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করবে হোয়াইটবোর্ড। এখানে অর্থনীতি থেকে শুরু করে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, টেকনোলজিকাল উদ্ভাবন থেকে শুরু করে তরুণদের কর্মসংস্থান-সবকিছু নিয়ে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হবে। সেখানে কিছুই বাদ যাবে না।’

এর প্রথম সংখ্যায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশকে গড়ার জন্য নেয়া নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর নেয়া নীতিনির্ধারণগুলো এখনো কীভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাদওয়ান মুজিব বলেন, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ তার জন্ম লগ্নের কিছু নীতিনির্ধারণীতে ফিরে গেছে, যার মধ্যে একটি ছিল ‘বন্ধুত্ব সবার তরে, কারো প্রতি শত্রুতা নয়’। এর ফলে অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যায় প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, মানবাধিকার কর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস, সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, অধ্যাপক শামস রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক হাসানের লেখা স্থান পেয়েছে

এবারের ম্যাগাজিনে ‘ইমারজিং ফ্রম দ্য ভিলেজ টু মার্ক অ্যা নিউ কান্ট্রি অন দ্য ম্যাপ’, ‘মুজিব’স ইকোনমিক পলিসিস অ্যান্ড দেয়ার রিলিভেন্স টুডে’, ‘ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট থ্রু পলিটিকাল স্ট্যাবেলিটি’, ‘জাস্ট লাইক টুডেস প্রোগ্রেসিভ পলিটিক্স’, ‘বাকশাল ওয়াজ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ইন ন্যাচার’, ‘বাংলাদেশ’স কনস্টিটিউট অব ১৯৭২: অ্যান এক্সপোজিশন অব মুজিব’স পলিটিক্যাল ফিলোসফি’, ‘হাউ মুজিব কো ম্যানেজড অন অব দ্য লার্জেস্ট রিলিফ অপারেশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘ফ্রেন্ডশিপ টুওয়ার্ডস অল ওয়াজ অ্যা মাস্টারস্টোক’ এবং ‘মুজিব’স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পলিসি অ্যাকশন টাইমলাইন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সিআরআইয়ের প্রকাশনা কার্যক্রমের ব্যতিক্রমী একটি উদাহরণ গ্রাফিক নভেল মুজিব। যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহান নেতাকে নিয়ে প্রথমবারের মতো কমিক স্টাইলে বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে।

ওয়েবিনারে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক জানান, হোয়াইটবোর্ডের পরবর্তী সংখ্যায় কোভিড-১৯ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর নিয়ে আলোচনা থাকবে।

এইউএ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]