‘জঙ্গিগোষ্ঠী দিয়ে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বিএনপি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০২১

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি জঙ্গিগোষ্ঠী দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। হরকাতুল জিহাদ ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীসহ জামায়াতের লোকজন কীভাবে সেখানে সংযুক্ত ছিল, কীভাবে তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষাৎকার এখনো পাওয়া যায়।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমানের স্মরণে সোমবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। আইভি রহমান পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম প্রধান আলোচক হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী এসময় বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানকে নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে স্মরণ করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায়, তখন সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় হাওয়া ভবনের পরিচালনায় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত গ্রেনেড দিয়ে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নিজের হাতে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত উপমন্ত্রী আব্দুস সালামের উপস্থিতিতে হাওয়া ভবনের বৈঠকে কীভাবে পরিকল্পনা হয়েছে সব আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।’

‘যে সব জঙ্গিগোষ্ঠী আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা এই রাষ্ট্রটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়, তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার এবং তারেক রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরিচালনার জন্য তাদের কাজে লাগিয়েছিল’—উল্লেখ করেন ড. হাছান।

‘দেশটাকে তারা (বিএনপি) কোন জায়গায় নিয়ে যেতে চায়’ প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘আজও দেখুন যে, তালেবান যখন কাবুল দখল করলো তখন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কী বললেন! ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ দেশটাকে তারা জঙ্গিদের অভয়ারণ্য বানিয়েছিল। তাদের মাধ্যমেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল, কিবরিয়া সাহেব (শাহ এ এম এস কিবরিয়া), আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছিল তারা, বিভিন্ন জায়গা গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা করেছিল। অর্থাৎ বিএনপি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। যারা এই রাজনীতি করে তারা কখনো দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত এবং সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর এ ধরনের জিঘাংসার অপরাজনীতি যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমাদের দেশে রাজনীতি কখনোই পরিশুদ্ধ হবে না।’

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক বলেন, ‘১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো ফণা তুলতে চায়। দেশবিরোধী এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে দেশের সবাইকে আওয়ামী লীগের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. করিম, আইভি রহমান পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান খোকা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, রাজনীতিবিদ রোকন উদ্দিন পাঠান, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি এম এ ভাসানী, আইভি রহমান পরিষদ সদস্য আজিজুর রহমান, মাহবুব হোসেন, খালেকুজ্জামান, হোসনে আরা জলি, সমীরণ রায় প্রমুখ সভায় বক্তৃতা করেন।

আইএইচআর/এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]