বিএনপির বিরুদ্ধে এক লাখ মামলায় আসামি ৩৫ লাখ: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২১

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির বিরুদ্ধে অন্তত এক লাখ মামলা করেছে। এসব মামলায় বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে। বিএনপির সিনিয়র নেতা এমনকি ইউনিয়নের কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখনও পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ সরকারকে আমরা সরাতে পারিনি। আমরা গভীর সংকট পার করছি। বিগত কয়েকবছর দেশে গণতন্ত্র নেই। কথা বলার অধিকার, সভাসমাবেশের অধিকার নেই। গ্রেফতার করে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর জেলে রাখছে। এই সরকার মুখে গণতন্ত্র বলে, কিন্তু নিজেরা মানে না। তারা পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের মোড়কে একদলীয় শাসন কয়েম করছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এসে দেখলাম এখানে অনেক ফ্লাইওভার হয়েছে। পাকা ড্রেন হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সরকার কি করেছে? দেড় বছরে লকডাউন লকডাউন খেলা করে সরকার মানুষের জীবিকা অর্জনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। যারা হকারি করতেন, স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করতেন, তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। গরিব মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতারা লুট করে খেয়ে ফেলেছেন। আমার কথা নয়, পত্রপত্রিকা খুললে দেখবেন আওয়ামী লীগ কিভাবে সারাদেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। দেশটাকে কোথায় নিয়ে গেছে তারা। আজ গরিব শুধু গরিব হচ্ছে। আওয়ামী লীগ মোটা থেকে আরও মোটা, তাজা থেকে আরও তাজা, বড়লোক থেকে আরও বড়লোক হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমরা সবসময় এ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা আছেন, তাদের পাশে আমরা ভাইয়ের মতো সবসময় দাঁড়াই। বাবরি মসজিদের ঘটনার সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমি তখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। যখন বাবরি মসজিদের ঘটনা ঘটলো, ডিসি আমাকে ফোন করলেন, আপনারা দ্রুত একটু আসুন, আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ডিসি সাহেব বললেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক জেলায় ফোন করে বলেছেন, বাংলাদেশে কোথাও যেন সাম্প্রদায়িক সমস্যার সৃষ্টি না হয়। কোথাও যেন পূজামণ্ডপ অথবা মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এভাবে ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। আমাদের সফল অর্জন, সেদিন বাংলাদেশের কোথাও আমরা কোনো ঘটনা ঘটতে দিইনি। আর এরা (বর্তমান সরকার) কি করেছে?

মির্জা ফখরুল বলেন, এই চট্টগ্রামের লোক হাছান মাহমুদ সাহেব বারবার করে বলছেন, এর পেছনে নাকি বিএনপি আছে। এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন আপনারা। এসব ঘটনা যদি না ঘটান, তাহলে জনগণ তার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করবে। জনগণের আন্দোলনকে ডাইভার্ট করার জন্য আপনারা এটা করছেন। এটা করতে না পারলে আপনাদের সমস্যা।

তিনি অভিযোগ করেন, পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে বিরোধী রাজনীতির কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না। আমাদের মিটিং করতে দেয় না। মিটিং করতে গেলে পুলিশ মারে, মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এবারও পুলিশ মিথ্যা মামলা দেওয়া শুরু করেছে। চৌমুহনীর ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ-র‌্যাবের সামনে সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর করলো, আর আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিনরাত কাজ করছেন। নেতা যারা আছেন, তারা কাজ করছেন। দলকে দ্রুত সংগঠিত করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন শুরু করে এ দানবীয় সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করা হবে। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দীন, দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বর্তমান আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান, চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আলহাজ্ব এমএ আজিজ, যুগ্ম-আহবায়ক মো. মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

মিজানুর রহমান/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]