বিএনপি মেজরিটি, সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে: ফেসবুক লাইভে হাসনাত
সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এখন বিএনপি মেজরিটি সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। সংসদের আইন কোনটা কি, সেটা সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবেই হয়। বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে, তাতে বিএনপি আমাদের সুখকর বার্তা দিচ্ছে না।
রোববার (১২ এপ্রিল) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে এসব কথা বলেন তিনি। প্রায় ৫২ মিনিটের ফেসবুক লাইভে হাসনাত বিএনপি সরকারের নানান সমালোচনা করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যে কয়টি সংস্কার এই সংসদে পাস হওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ সংস্কার কমিশন। অথচ এই কমিশনটির প্রস্তাব সংসদে ওঠানোই হয় নাই। আলোচনার জন্য তার প্রয়োজন আছে কি না, বা কতটা প্রয়োজন জনগণের জন্য- এটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদে ওঠানো হয় নাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টা ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়ার জন্য আমি সংসদে প্রশ্ন করেছিলাম। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সাহেব সংসদে ২০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। এই ২০টার মধ্যে ৯টাই এস আলমের প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে আবার ব্যাংকে ফেরত আনার জন্য আইন পাস করা হলো। এটি বাংলাদেশের জন্য কালো দিন।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছিল তারা রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল রিফর্মের জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো স্ট্রাকচারাল রিফরমেশন হচ্ছে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসে নাই, আপনারা (বিএনপি) আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের অনেক সংসদ সদস্য আছেন বিএনপির মন্ত্রীদেরকে রাগাতে চান না। মনে করেন, এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবে, উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। তার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে কী লাভ? আবার সম্পর্ক ভালো রেখেও কী লাভ?
‘আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবেন, দিয়েন। আমার এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিতে চান, দেন। পুলিশ যেন আমাদেরকে সহায়তা না করে ফোন দিয়ে বলে দেবেন, দেন। আপনি অ্যাডমিনকে বলে দেবেন, হাসনাতের এলাকায় যেন হাসনাতকে সহায়তা না করা হয়, দেন। দিন শেষে আমি এটা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের পক্ষে আছে।’
এনএস/এসএএইচ