‘সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণ মানুষকেই জাগতে হবে’

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৩

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। প্রবীণ রাজনীতিক। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি)।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিপিবির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে কথা বলেন জাগো নিউজের সঙ্গে। লিখেছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: বছর শেষে নির্বাচন। আপনাদের প্রস্তুতি নিয়ে কী বলবেন?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: নির্বাচনের প্রস্তুতির চেয়ে নির্বাচনী পরিবেশ দাঁড় করানোর যে সংগ্রাম, তাই নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না হলে অন্য সব আন্দোলন বৃথা বলে মনে করি। পরিবেশ না দাঁড়ালে কোনো গণতান্ত্রিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও মনে করি না।

জাগো নিউজ: নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে করণীয় কী? আপনারা কী করবেন?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির ব্যাপারে অনেক কিছু করার আছে। কাঠামোগত পরিবর্তনটাই জরুরি। এজন্য আমূল পরিবর্তন দরকার। পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তির ব্যবহার বন্ধ, অর্থের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন>> ভোটের ৯ মাস বাকি, সমঝোতায় নেই অগ্রগতি

এজন্য দলীয় সরকারের বাইরে একটি নির্বাচনী সরকার গঠন করতে হবে। কারণ প্রমাণ হয়েছে বারবার, দলীয় সরকার থাকা মানেই প্রহসনের নির্বাচন হবে। ভোট ডাকাতি হবে। নির্দলীয় একটি তদারকি সরকার গঠন করে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই দাবিতেই আন্দোলন জোরদার করবো।

জাগো নিউজ: এমন ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছেন বহু আগে থেকেই। কিন্তু অর্থ, পেশিশক্তির ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: এই দাবি আমাদের বহুদিনের নয়। সময় ধরে আপনি বিশ্লেষণ করতে পারবেন না। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তো শত বছর আন্দোলন করতে হয়েছে। হেরে যেতে হয়েছে বহুবার। আবার মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলন নিয়েও অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন। সে আন্দোলনে আমিও ছিলাম। দিন শেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা সফল হলাম।

জাগো নিউজ: আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলেন, তাতে আপনাদের আন্দোলন কতটুকু সফল হবে বলে মনে করছেন?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: জনবিচ্ছিন্ন সরকার মানুষের অধিকার হরণ করে আত্মবিশ্বাস নিয়েই কথা বলেন। আগেও তাই হয়েছে। কিন্তু কোনো স্বৈরশাসকই স্থায়ী হয়নি। পতন ঘটেছে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে না।

আরও পড়ুন>> কঠোর আন্দোলনের বার্তা দিতেই রমজানে মাঠে বিএনপি

জাগো নিউজ: অন্য বিরোধী শক্তিগুলোকে আপনাদের আন্দোলনের সঙ্গে কীভাবে প্রত্যাশা করছেন?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: আমরা নিজেরা আন্দোলনের মধ্যেই আছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে করছি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। গণবিরোধী এ সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে সাধারণ মানুষের রক্ষা নেই।

এমন আন্দোলনে সবাই যুক্ত হবে অথবা পৃথকভাবেও গড়ে তুলতে পারে এমন প্রত্যাশা সব মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে থাকতে পারে। তবে বিএনপিসহ আরও যারা আন্দোলনে আছেন, তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আছে বলে আমি মনে করি না। তারাও কোনো না কোনোভাবে প্রহসনের সরকার গঠন করতে চায়।

আরও পড়ুন>> ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে ‘কৌশলী’ বিএনপি

সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণ মানুষকেই জাগতে হবে। বিপ্লব সাধারণ মানুষের অধিকার থেকে হতে হবে। নইলে একই মুদ্রা থেকে যাবে।

জাগো নিউজ: সে বিপ্লব কবে?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: এই প্রশ্ন আপনার কাছেও। ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন না কেন? আমি তো মনে করি ন্যায্য আন্দোলনের আবেদন সিপিবি তৈরি করেছে। মানুষ সাড়া দেবে কী দেবে না, তা মানুষের বোধের ব্যাপার। ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে আমরা সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে কোনো স্বার্থই রক্ষা করতে পারবো না। সব লুট হয়ে যাচ্ছে। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকছে না। অনেকে মনে করেন, সব রেডি হোক, তবেই যোগ দেবো। তা হয় না। মশালটা জনতাকেই ধরতে হবে। দাবি সঠিক হলে জনতার বিপ্লব ঘটবেই।

জাগো নিউজ: সামনের নির্বাচন নিয়ে কী পরিস্থিতি দেখছেন?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: ২০১৪ বা ২০১৮ সালে যে কায়দায় নির্বাচন করে প্রহসনের সরকার গঠন করেছে, এবারও তাই হবে। তবে কায়দা ভিন্ন হতে পারে। এটা আপনি নিশ্চিত ধরে নিতে পারেন শেখ হাসিনার সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার আর সাহস নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বারবার বলছেন, এবার জিততে না পারলে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। এ কারণে সরকার উন্নয়নের ছবক বারবার সামনে এনে নির্বাচনী হাওয়া নিজের পক্ষে নিতে চাইছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ হাওয়ায় গা ভাসাবে বলে মনে করি না।

জাগো নিউজ: পরিণতি কী হতে পারে?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: গণআন্দোলনের বিস্ফোরণ ঘটবে সামনে। এটি ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। মনে রাখতে হবে আমাদের শুধু গদি বদল করলে হবে না। মৌলিক অবস্থার বদল ঘটাতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের সামনে। এর বাইরে আর কোনো চেতনার দরকার আছে বলেও আমি বিশ্বাস করি না। এই চেতনাই আমাদের আন্দোলনের মূল ভিত্তি।

এএসএস/এএসএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।