মুক্তি পেলেন সিসিক মেয়র আরিফ
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার দুপুরে ১৫ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. নেছার আলম মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারাবন্দী আরিফুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ থাকায় সেখান থেকেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পর আরিফ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুুযায়ী শিগগিরই তাকে সিলেটে নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
মায়ের অসুস্থতার কারণে কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় ১৫ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়া হয় আরিফুল হককে। দুই মামলায় জামিন পাওয়ার পর সোমবার জেল থেকে মুক্তি পান তিনি।
গত রোববার সকাল ১১টায় আরিফের নিজের অসুস্থতা এবং মায়ের অসুস্থতার প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বিস্ফোরক মামলায় জামিন পান। হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাবুলাহ তার ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৫ দিনের জামিন পেয়েছিলেন আরিফ। তবে বিস্ফোরক মামলা থাকার কারণে তিনি মুক্তি পাননি।
বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগা আরিফুল হকের মা সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জি কে গউছ এবং বিএনপির চেয়ারপরাস খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। পরদিন আরিফসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন। কারাগারে থাকাকালে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
এরপর ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি মামলা দায়ের করেন।
ছামির মাহমুদ/এআরএ/পিআর