সেমিফাইনালেও জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা


প্রকাশিত: ০২:৫৪ এএম, ২৯ মার্চ ২০১৬

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বলছিলাম, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ভারত। এর আগে ৫টা বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশ কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি। এবার ভারতের সুযোগ রয়েছে জেতার। প্রথম ম্যাচটা হারার পরও বলেছিলাম, এ ধরনের ধাক্কা খেয়ে যারা ওঠে, তাদের জেতার সুযোগও সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
 
ভারত তো সেমিফাইনালে উঠেই গেছে। তবে আমার মনে হয়, ভারত এখনও নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলেছে। তবে এখানে কথা আছে। প্রতিটি ম্যাচেই বিরাট কোহলি ভালো খেলছে। তার ব্যাটেই এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। অন্যরা কিন্তু ভালো খেলতে পারছে না। ভারতের বাকি ব্যাটসম্যানরা কেন যেন নিজেদের এখনও মেলে ধরতে পারছে না।
তবে বোলিং ভালো করছে ভারতীয়রা। প্রতিটি ম্যাচেই বলবো, চমৎকার বোলিং করছে। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই কিন্তু কোহলি ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যান জ্বলে উঠতে পারছে না। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, যুবরাজ সিং, সুরেশ রায়না- এখনও তাদের সেরা ফর্মে আসেনি।

যেহেতু সেমিফাইনালে উঠে গেছে এবং খেলা হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে- এ পর্যায়ে এসে তাদের সম্ভাবনাই বেশি। এখানে জিতলে ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে তারা। যদিও প্রথমে বলেছিলাম ভারতের সম্ভাবনা বেশি। তবে টুর্নামেন্টের চারটা ম্যাচ দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে নিউজিল্যান্ডেরই সম্ভাবনা বেশি।

তাদের চমৎকার একটা ব্যালান্সড দল রয়েছে। অন্যসব দলের তুলনায়। যদিও টি-টোয়েন্টির জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব পাওয়ারফুল দল; কিন্তু নিউজিল্যান্ডের কথা যদি বলেন, তাহলে তাদের চারটা ম্যাচ দেখে এতটাই ভালো লেগেছে যে, তাদের ব্যাটিং-বোলিং যাই দেখি সবই ভারসাম্যপূর্ণ। এ কারণে নিউজিল্যান্ডকেও ফেভারিটের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

তাদেরকে এ কারণেই ফেভারিট বলা যাবে যে, আপনি যদি স্পিন উইকেট বানান তাহলে ওদের হাতে স্পিন অপশন আছে। আপনি যদি ব্যাটিং উইকেট বানান তাহলে ওদের পাওয়ারফুল ব্যাটসম্যান আছে। হাই স্ট্রাইকরেট খেলার মত ব্যাটসম্যান আছে। আপনি যদি পেস উইকেট বানান, তাহলে তাদের হাতে সেরা অপশন রয়েছে। যেমন সাউদি, বোল্ট, অ্যাডাম মিলনে, মিচেল ম্যাকক্লেনঘান।

সুতরাং, তাদের এমন একটা দল যাদের দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এই বিশ্বকাপে তারা খুবই শক্তিশালি একটি দল। তিনটা ডিপার্টমেন্টেই তারা সেরা। ফিল্ডিংও দারুণ করে তারা। আর অধিনায়কত্ব তো করছে অসাধারণ। কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্ব অবাক করে দিয়েছে আমাকে।

তবে চারটা ম্যাচে একটা ভাগ্যের সহায়তা তারা পেয়েছে। প্রতিটা ম্যাচেই টস জিতে তারা প্রথমে ব্যাট করেছে এবং পরে বোলিং করেছে। এ দিকটা সামনে আনলে আমি ঠিক বলতে পারবো না, তারা আসলে চেজ কেমন করতে পারবে। ব্যাটিং আগে করাতে তাদেরকে মনে হয়েছে তারা অসাধারণ একটি দল; কিন্তু এখন যেহেতু সেমিফাইনাল, নক আউট পর্ব। সুতরাং, নকআউটে চেজিংটা তারা কেমন করবে বলা যাচ্ছে না। তবে ওভারঅল নিউজিল্যান্ডকেই সেরা দল মনে হয়েছে।

এবার আসি ওয়েস্ট ইন্ডিজে। প্রথম দুটি ম্যাচের সঙ্গে তাদের শেষ দুটি ম্যাচ মেলানো যাবে না। প্রথম দুই ম্যাচে তো অসাধারণ খেলেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮০’র ওপরে রান চেজ করেছে। গেইল ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছে। তবে শেষ দুই ম্যাচে এসে প্রথম দুই ম্যাচের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ম্যাচে তো তারা আফগানিস্তানের কাছে হেরেই গেল।

Braver-image

সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটাকে মনে হয়েছে খুব গতিময় একটা দল। আবার খেলা শেষে দেখা গেল তারা নতুন একটা ড্যান্স আবিস্কার করেছে। মানে দলটা একই সঙ্গে একতাবদ্ধ এবং নিজেরা যেন পরিকল্পনা করেছে, পুরো টুর্নামেন্টেই তারা এভাবে উদযাপন করবে। দলটির অনেক ক্রিকেটারই প্রায় ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে। অনেকেরই এটা হবে শেষ বিশ্বকাপ। পরের বিশ্বকাপ যেহেতু ২০২০-এ। সুতরাং, তারাও চাইবে ভালো কিছু করার জন্য।

যদিও সেমিতে খেলা হবে ভারতের সঙ্গে। ক্রিস গেইল যদি নিজের ফর্মে জ্বলে উঠতে পারে, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রোখা যাবে না। যদিও অশ্বিন খুব চমৎকার বল করছে। শুরুতেই গেইলকে তুলে নেয়ার সম্ভাবনা আছে। তাহলে ম্যাচটাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য একটু বিপদই হবে আমার কাছে মনে হয়। কারণ ভারত কিন্তু প্রতিটা ম্যাচেই বোলিংটা ভালো করছে। এ ক্ষেত্রে ভারত হয়তো বা একটু এগিয়ে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে।

ওদিকে ইংল্যান্ডের কথা বলবো যে দলটি খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। প্রথম ম্যাচে হেরেছে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে কী অসাধারণই না খেলল তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলের বিপক্ষে ২২৯ রানও তাড়া করে জিতে গেলো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড এটা। ইংল্যান্ড দলের ব্যাটসম্যানদের দেখলাম- তারা ব্যাটিংটা খুবই আক্রমণাত্মক করছে এবার। বিশেষ করে টপ থ্রি-ফোর ব্যাটসম্যান তো প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে দিচ্ছে। জো রুট, জস বাটলার, আলেক্স হেলস, জেসন রয়- এরা খুব আক্রমণাত্মক খেলতেছে। ইংল্যান্ডের বোলিংও খুব ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে দুই স্পিনার আদিল রশিদ আর মঈন আলি- এরা খুব ভালো স্পিন করতেছে।

পেস বোলাররাও কিন্তু খারাপ করছে না। বেন স্টোকস তো দারুণ এক অলরাউন্ডার। ব্যাট এবং বল হাতে- উভয় ক্ষেত্রেই অসাধারণ অবদান রেখে যাচ্ছে। তার সঙ্গে ক্রিস জর্ডান, ডেভিড উইলি এবং লিয়াম প্লাঙ্কেটরা অসাধারণ পেস বল করতেছে। আবার ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করতে হয়।
 
সুতরাং, ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটিও হবে খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড যেহেতু এখনও রান চেজ করার পরীক্ষায় পড়েনি সে ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ডই।   

লেখক : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক

আইএইচএস/এমআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।