শেষ দিনে মঞ্চস্থ হলো তোরা সব জয়ধ্বনি কর
‘ভাঙা গড়া নাট্যোৎসব’র শেষ দিন ছিলো গতকাল বুধবার, ৩০ মার্চ। এদিন সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বেইলী রোডের মহিলা সমিতিতে মঞ্চস্থ হয়ে গেল নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বলের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’র দ্বিতীয় মঞ্চায়ন।
সব্যসাচি লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মঞ্চ সারথি আতাউর রহমান।
নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এর আগে গেল ১৮ মার্চ শিল্পকলার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে হয়ে গেল নাটটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন চঞ্চল সৈকত, আবদুল্লাহ আল মামুন, জুয়েইরিযাহ মউ, সাইদুর রাহমান, শেফালী পারভীন, আবদুল আজিজ প্রমুখ।
‘সময় তখন গণহত্যা, আর তার প্রতিবাদে মুক্তিকামী বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে দেশের মানুষকে। গ্রেফতার করতে থাকে কতজনকেই। এমনি গ্রেফতারকৃত একজনকে নিয়ে এ নাটক।
একদিকে পাকিস্তান বাহিনীর অবজ্ঞা বাংলাদেশ সম্পর্কে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভেতর থেকে অসাধারণ মানুষের জাগরণ, এ নিয়েই এ নাটক। বস্তুত বাঙালির ভেতর থেকে প্রবল চাপের মুখে বাঙালির জাগরণ- এ নিয়েই রচিত নাটকটি। বলা চলে এটি মূলত মানুষের ইতিহাসের নাটক।’ নিজের লেখা নাটক নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সৈয়দ শামসুল হক।
নাটকে দেখা যায়- একজন সাধারণ মানুষ। ভুল বোঝাবোঝির ফাঁদে পড়ে বন্দী হয়। তারপর পাকিস্তানী সৈন্যদের কবলে, সৈন্যদের ক্যাম্পে। একটা কবিতা আর তাকে ঘিরে চলতে থাকে দ্বন্দ্ব, স্বীকারোক্তির চাপ। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে খুঁজে ফিরে সৈন্যরা সে মানুষটির মাঝে। এভাবেই এগিয়ে চলে নাটকটি। 
ছাপোষা নজরুল আর কবি নজরুল পৃথক থাকতে থাকতে কোথাও এক বিন্দুতে যেন মিলিত হয়ে যেতে থাকেন ক্রমশ। ছাপোষা নজরুল অসহনীয় অত্যাচারের মুখে, অপমানিত হতে হতে এগিয়ে যেতে থাকে মুক্তির পথে। বিদ্রোহের দিকে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের অস্তিত্বের দিকে আকর্ষিত হতে থাকে তার সমস্ত সত্তা। ঘোরে-বেঘোরে, চেতনে-অবচেতনে উঠে আসে দেশ, ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম আর যুদ্ধ।
একটি ক্ষুদ্র ঘটনা, মাত্র একজন মানুষকে ঘিরে উঠে আসে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, অনিশ্চয়তা। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের গল্পও উঠে আসে কাহিনিতে।
এলএ/এমএস