কেমন যাচ্ছে করাচির ১৫ লাখ বাঙালির জীবন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫২ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

করাচির ইব্রাহিম হায়দেরি ছিল এক সময় ছিমছাম একটি জেলে পল্লী। তবে এখন এটি হয়ে উঠেছে ঘিঞ্জি একটি জনপদ। যেখানে-সেখানে নোংরা পানি জমে আছে। তার ওপর ভাসছে আবর্জনা। রাস্তার দু’পাশে বস্তির মতো ঘর। আর এখানকার সিংহভাগ বাসিন্দাই বাঙালি।

করাচি শহরে মোটামুটি ১৫ লাখের মতো বাঙালির বাস; যাদের এখনও নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেয়নি পাকিস্তান। ভারত ভাগের পর থেকে তাদের অধিকাংশই বংশ পরম্পরায় এই ইব্রাহিম হায়দেরি এলাকাতে বাস করছেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাখো বাঙালিকে নাগরিক হিসেবে মর্যাদা না দিয়ে তাদের সাথে যে বঞ্চনা করা হয়েছে সেটির সাথে ‘যতটা না রয়েছে জাতিসত্তার সম্পর্ক, তার চেয়ে বেশি পাকিস্তানের জটিল ইতিহাসের সম্পর্ক আছে।

ওই এলাকায় বাঙালিদের একটি সংগঠনও রয়েছে। নাম- পাকিস্তানি বেঙ্গলি অ্যাকশন কমিটি।

কমিটির সমন্বয়ক জয়নুল আবেদীন মনে করেন করাচিতে একসময় খারাপ ছিল না বাঙালিরা। তার ভাষায়, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করতে কর্মকর্তাদের কিছু ঘুষ দিতে হতো। তাছাড়া ঠিকঠাকই চলেছে।’

তবে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করাচীতে সন্ত্রাস এবং জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকায় জীবনযাপনের সেই স্বস্তি দিন দিন চলে যাচ্ছে। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করা পাকিস্তানের বাঙালিদের জন্য এখন প্রায় অসম্ভব।

পরিচয়পত্র না থাকায় কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে সমস্যার কথাও উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে। তেমনই একজন আমারা ইউসুফ। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা এই তরুণী বলেন, ‘আমি কি পাকিস্তানি নই? আমার জন্ম এখানে। আমার বাবা-মার জন্মও এখানে। তারপরও কেন তারা আমাদের বাঙালি বলে ডাকে। কেন পরিচয়পত্র দেয় না? ভাবলে খুবই কষ্ট লাগে, কিন্তু কী করার আছে আমাদের?’

শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে পাকিস্তানে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তার মনে।

মূলত নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রতি বছর হাজারো বাঙালি তরুণ-তরুণী কলেজ থেকে ঝরে পড়ছে। এরপর ছোটোখাটো কাজে লেগে যাচ্ছে তারা। এরা হয় রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করছে, না হয় চায়ের দোকানে বা মুদি দোকানে কাজ করছে।

নাসিমা নামে এক নারী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, পরিচয়পত্র না থাকায় আমার ভাই কোনো চাকরি পায় না, আমার বাবা পেনশন পায় না।

pakistan

এসবের সঙ্গে রয়েছে পুলিশেও ভয়ও। এই পুলিশের ভয়েই নাসিমার বাবা-ভাই এলাকার বাইরে খুব একটা বের হতে পারেন না। কলোনির ভেতরেই যেসব ছোটোখাটো ফ্যাক্টরি আছে সেখানে নামমাত্র পয়সায় খাটতে হয় অধিকাংশ বাঙালিকে।

পাকিস্তানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আসাদ ইকবাল বাট বিবিসিকে বলেন, ‘একজন অবাঙালি শ্রমিক যেখানে মাসে ১২-১৩ হাজার রুপি মজুরি পায়, একজন বাঙালি পায় তার অর্ধেক।’

বাঙালি মেয়েরা ফ্যাক্টরি, বাসাবাড়িতে কাজ করে। সেখানে শুধু যে পয়সা কম তা নয়, তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বাঙালি নেতা জয়নুল আবেদিন মনে করেন, সস্তা শ্রমের সুবিধার জন্য পাকিস্তানে কেউ চায় না বাঙালিরা দেশ ছেড়ে চলে যাক, কিন্তু বৈধতার জন্য কেউ তাদের জন্য কিছু করছেও না।

তারপরও হাল ছাড়তে রাজি নন তিনি। বলছেন, ‘যাই হোক না কেন আমরা এদেশ ছেড়ে যাবো না। আমরা এখানেই থাকবো, এখানেই মরবো।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

এনএফ/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :