মালয়েশিয়ার প্রত্যাবাসন কর্মসূচি: ফিরতি যাত্রায় বাংলাদেশিরা শীর্ষে
মালয়েশিয়া সরকারের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি প্রবাসী নাগরিক স্বেচ্ছায় এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী এরই মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জরিমানা ও কম্পাউন্ড বাবদ সরকার ৭৭ মিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি রাজস্ব আদায় করেছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা।
যদিও বাংলাদেশিরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে শীর্ষে, তবে তাদের সুনির্দিষ্ট প্রত্যাবাসন সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত বছর থেকে চালু থাকা এই স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন উদ্যোগ অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। অনেকেই মামলা ছাড়াই সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফেরার পথ বেছে নিচ্ছেন।
আগামী এপ্রিল পর্যন্ত এই কর্মসূচি বহাল থাকবে উল্লেখ করে দাতুক লোকমান বলেন, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা শেষ সময়ের আগেই এই সুযোগ কাজে লাগান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনে কঠোর অভিযান চালানো হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে- শেষ সময় ঘনিয়ে এলে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের হার দ্রুত বেড়ে যায়। তাই আগামী সপ্তাহগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১৯ মে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মেয়াদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে পেনিনসুলার মালয়েশিয়া ও ফেডারেল অঞ্চল লাবুয়ানের জন্য চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এই স্বেচ্ছামূলক অ্যামনেস্টি কর্মসূচির আওতায় অবৈধ অভিবাসীরা মামলা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারছেন। তবে অপরাধভেদে ৫০০ রিঙ্গিত ও ৩০০ রিঙ্গিত হারে কম্পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি স্পেশাল পাসের জন্য ২০ রিঙ্গিত ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এমআরএম/এমএস