কুয়ালালামপুরে হৃদয় ছুঁয়ে গেলো ‘বাংলাদেশ উৎসব’

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৯ এএম, ১২ মে ২০২৬

কুয়ালালামপুরে বর্ণাঢ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ উৎসব ২০২৬’। বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় মুখর হয় পুরো আয়োজন। যেখানে আনন্দ, আবেগ ও দেশপ্রেম একসূত্রে গেঁথে তৈরি করেছিল অনন্য এক অনুভূতির।

রোববার (১০ মে) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি অভিজাত হোটেলে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া (বিয়াম)। উৎসবে অংশ নেন শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি।

দিনভর আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা। প্রতিটি পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের ছোঁয়া। দর্শকদের করতালি আর উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

jagonews24

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট বশির ইবনে জাফর। প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (কনসুল্যার) ফিরোজ রাব্বানী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত রাখতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান, মালয়েশিয়া বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কমিউনিটি নেতা মাহবুব আলম শাহ, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) ফাল্গুনি বাগচি, বিয়াম উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ ও পাভেল সারওয়ারসহ অনেকে।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল ও বিভিন্ন প্রদর্শনী। পিঠাপুলি, দেশি খাবার আর বাংলার ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনা প্রবাসীদের মনে ফিরিয়ে আনে শৈশব আর দেশের স্মৃতি।

অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মনে হচ্ছিল যেন আমরা কুয়ালালামপুরে নয়, বাংলাদেশের কোনো উৎসবে আছি।

jagonews24

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।

প্রবাসের মাটিতে এমন একটি আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং এটি হয়ে উঠেছিল শেকড়ের টানে এক হৃদয়ছোঁয়া মিলনমেলা, যেখানে বাংলাদেশকে নতুন করে অনুভব করেছেন প্রবাসীরা।

এমআইএইচএস/

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]