অস্ট্রেলিয়ায় চুয়েটিয়ানদের বর্ণাঢ্য বৈশাখী-পিঠা উৎসব
শতদল তালুকদার, সিডনি থেকে
নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিস্থ বাঙ্গারিবী পার্কে আনন্দঘন পরিবেশে ‘চুয়েটিয়ান ইন অস্ট্রেলিয়া’ আয়োজন করেছিল ‘বৈশাখী ও পিঠা উৎসব ২০২৬’। বিদেশের মাটিতে এক টুকরো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল সিডনির এই মনোরম পরিবেশে।
উৎসবটি পরিণত হয়েছিল সকল প্রজন্মের চুয়েটিয়ানদের এক মিলনমেলায়। ১৯৭৩ ব্যাচ থেকে শুরু করে ২০১৬ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী তাদের পরিবারসহ এই উৎসবে যোগ দেন। বৈশাখী ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পুরো পার্ক যেন এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নিয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম এবং জ্যেষ্ঠ চুয়েটিয়ান মো. শওকত আলী ভূঁইয়া।
সাবেক উপাচার্য তার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে প্রবাসে এ ধরনের অ্যালামনাই সংগঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ‘চুয়েটিয়ান ইন অস্ট্রেলিয়া’র পক্ষ থেকে চুয়েটের মেধা বৃত্তি কার্যক্রমে নিরলস সমর্থনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল ঐতিহ্যবাহী দেশি নাস্তা—রুটি, সুজি হালুয়া, ডিম ভাজি এবং লাবড়া। নাস্তার পর শুরু হয় শিশু ও বড়দের জন্য নানাবিধ খেলাধুলা। খেলার ফাঁকে ফাঁকে চলে আড্ডা আর স্মৃতিচারণ। ক্লান্তি দূর করতে পরিবেশন করা হয় তরমুজ।
মধ্যাহ্নভোজ ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। সাদা ভাত ও পান্তা ভাতের সাথে ছিল ইলিশ মাছ ভাজি, মুরগির মাংস, ইলিশের মাথা দিয়ে মুড়িঘণ্ট, ডাল এবং হরেক রকমের জিভে জল আনা দেশি ভর্তা। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় দুপুরের খাবারের টেবিলটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই উৎসবমুখর।
দুপুরের খাবারের পর শুরু হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ, মজার গান খেলা, কাপল গেম এবং র্যাপ পারফরম্যান্সে মেতে ওঠেন সবাই। এই পর্বের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট গীতিকার এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ২০২৬ স্বাধীনতা পদক বিজয়ী ডা. আবদুল্লাহ মামুন-এর উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমান্তরালে চলছিল ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব, যেখানে প্রায় সব ধরনের দেশি পিঠা ও মিষ্টির সমাহার দেখা গেছে।
দিনশেষে সূর্যাস্তের সাথে সাথে একবুক আনন্দ আর অমলিন স্মৃতি নিয়ে চুয়েটিয়ানরা ঘরে ফেরেন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
তারা জানান, এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব নয়, বরং চুয়েটিয়ানদের পারস্পরিক বন্ধন ও শিকড়ের টানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি অনন্য মাধ্যম।
এমআরএম