তারাবির তিলাওয়াতে আজ
সুরা ফাতেহা ও বাকারার প্রথমার্ধে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ১৪৪৭ সালের ১ রমজান ইশার পর প্রথম দিনের তারাবিহ নামাজে আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে পবিত্র কোরআনের প্রথম দেড় পারা অর্থাৎ সুরা ফাতেহা ও সুরা বাকারার প্রথমার্ধ (২০৩ নং আয়াত পর্যন্ত) পঠিত হবে।
সুরা ফাতেহা
এ সুরাটি কোরআনুল কারিমের সর্বোত্তম সুরা। উম্মুল কোরআন নামে খ্যাত এ সুরাটি আমরা জানাজা ছাড়া সব নামাজেই পড়ে থাকি। এটি মাক্কি সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ৭।
এ সুরার প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। চতুর্থ আয়াতে বান্দার পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয়েছে যে, আমরা শুধু আল্লাহর ইবাদত করা ও শুধু তার কাছেই সাহায্য চাই। শেষ তিন আয়াতে আল্লাহর কাছে সরল পথের দিশা প্রার্থনা করা হয়েছে; যে পথ তার প্রিয় বান্দাদের পথ, অবাধ্য বান্দাদের পথ নয়।
সুরা বাকারা
কোরআনুল কারিমের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় সুরা সুরা বাকারা। এটি মাদানি সুরা। সুরাটির আয়াত সংখ্যা ২৮৬। আজ এ সুরার ২০৩নং আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে।
আয়াত ১-২০
মুত্তাকিদের পথনির্দেশিকা, সফলতা ও পরিচয়ের পর কাফেরদের পরিচয় এবং মুনাফিকের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
আয়াত ২১-২৯
সমগ্র মানবজাতির প্রতি ইবাদাতের আহ্বান করা হয়েছে। কোরআনের প্রতি সন্দেহপোষণকারীদের চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মুমিনদের জন্য জান্নাতের বর্ণনার পাশাপাশি আল্লাহর অবাধ্যকারী কাফের-ফাসেকদের ক্ষতিগ্রস্তের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
আয়াত ৩০-৩৯
হজরত আদমের (আ.) খেলাফত এবং মানুষের জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা করা হয়েছে। হজরত আদমকে (আ.) মর্যাদা ও সম্মান প্রদান এবং তাকে দুনিয়ায় পাঠানো, মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধি নির্ধারণ করার ঘটনা বর্ণনা করে শয়তানের শত্রুতা ও কুমন্ত্রণা থেকে সাবধান করা হয়েছে।
আয়াত ৪০-৭৪
ইহুদিদের ইতিহাস ও মুসলমানদের দুঃখ, দুর্দশা ও তার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর দ্বীন জমিনে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং অকৃতজ্ঞ ইহুদি জাতির হঠকারিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
আয়াত ৭৫-৯৮
এ অংশে মানুষের পাপ-পুণ্যের বিচার এবং বনি ইসরাইলের (ইহুদি জাতি) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের স্বভাব তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বনবীর (সা.) সঙ্গে তাদের প্রতারণা, পরকালীন সফলতা নিয়ে তাদের মিথ্যা দাবি এবং হযরত জিবরাইল (আ.) ও বিশ্বনবীর প্রতি তাদের শত্রুতার বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।
আয়াত ৯৯-১০৩
এ আয়াতগুলোতে বিশ্বনবীর (সা.) প্রতি কোরআন নাজিলের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিশপ্ত ইহুদি জাতির জাদুবিদ্যার প্রতি আসক্তি ও এর অসারতার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
আয়াত ১০৪-১২৩
এই আয়াতগুলোতে ইহুদিদের শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ ও ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। কোরআনের আয়াত 'রহিত' হওয়া সংক্রান্ত ব্যাখ্যা, মুসলমানদের ইমানি চেতনা জাগ্রত করা এবং ইহুদি ও নাসারাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এ ছাড়া বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কিবলা পরিবর্তনের বিষয়ে ইহুদিদের অপপ্রচারের নিন্দা করা হয়েছে এবং নির্ভেজাল তাওহিদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আয়াত ১২৪-১৪১
হযরত ইবরাহিমকে (আ.) মুসলিম উম্মাহর ইমাম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পবিত্র কাবা ঘর নির্মাণ, তার দোয়া এবং শেষ নবী প্রেরণের ব্যাপারে তার আকুতি বর্ণিত হয়েছে। পাশাপাশি দ্বীনের ওপর অটল থাকার গুরুত্ব আলোচিত হয়েছে।
আয়াত ১৪২-১৫৭
কিবলা পরিবর্তনের রহস্য ও যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা হয়েছে। মুসলিম জাতির পরিচয়, বৈশিষ্ট্য এবং অমুসলিমদের আচরণের পাশাপাশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, ইমানের অগ্নিপরীক্ষা এবং শহীদদের সুউচ্চ মর্যাদার কথা এসেছে।
আয়াত ১৫৮-১৭৭
হজ ও ওমরাহর অন্যতম আমল সাফা ও মারওয়া পাহাড় প্রদক্ষিণের বিধান দেওয়া হয়েছে। সত্য গোপনকারীদের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি, তাওহিদের মূলনীতি এবং হালাল-হারাম সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আলোচিত হয়েছে। পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করে ইসলামের সঠিক আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এখানে।
আয়াত ১৭৮-১৮৮
ইসলামি শরিয়তে কিসাস বা হত্যার দণ্ডবিধি এবং ওসিয়ত সংক্রান্ত বিধান আলোচনা করা হয়েছে। রোজার বিধান, এর তাৎপর্য, সেহরি ও ইতিকাফের নিয়মাবলিও এখানে এসেছে। এ ছাড়া অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করার নিষেধাজ্ঞা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।
আয়াত ১৮৯-২০০
চাঁদের হ্রাস-বৃদ্ধি ও সময়ের হিসাব, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং নিষিদ্ধ মাসগুলোতে যুদ্ধের বিধান আলোচিত হয়েছে। জিহাদের উদ্দেশ্য, আল্লাহর পথে ব্যয় এবং হজ ও ওমরাহর বিস্তারিত নিয়মাবলি এই অংশে তুলে ধরা হয়েছে।
সর্বোত্তম দোয়া
২০১ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন যে দোয়াটিকে হাদিসে সর্বোত্তম দোয়া বলা হয়েছে। দোয়াটি হলো:
বাংলা উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ ওয়া কিনা আজাবান্নার।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন, পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
ওএফএফ