জুমার খুতবা

রাসুলুল্লাহর (সা.) লজ্জাশীলতা ও বিনয়

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ০১ মে ২০২৬
রাসুলুল্লাহর (সা.) লজ্জাশীলতা ও বিনয় ছবি: সংগ্রহীত

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তাদেরকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি এক, চিরন্তন দাতা, মহাস্রষ্টা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা ও আমাদের নবী এবং আমাদের অভিভাবক মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসুল, যাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে সর্বোত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত রহমত বর্ষণ করুন।

হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করেছেন মানুষকে সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করার জন্য, যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি সর্বোত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য।’ এবং এমন কোনো ভালো কাজ নেই যা তিনি তাঁর উম্মতকে দেখিয়ে দেননি, আর এমন কোনো মন্দ কাজ নেই যা থেকে তিনি তাদেরকে সতর্ক করেননি। তাঁর মাধ্যমে উত্তম চরিত্রের সূচনা পূর্ণ হয়েছে এবং সমস্ত পরিপূর্ণতার সমাপ্তি ঘটেছে, যেমনটি তাঁর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে নবুয়্যত এবং সমাপ্ত হয়েছে রিসালত।

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লজ্জাশীল। লজ্জা হচ্ছে মানুষের মাঝে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ, এমন কি তা ইমানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘ইমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং তার মধ্যে সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জাও ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।’

মানুষের মধ্যে যখন লজ্জা না থাকে, তখন কোনো কিছুই তাকে অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে না। যেমন হাদিসে এসেছে, ‘পূর্ববর্তী নবীদের বাণী থেকে মানুষ যা পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো—যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে তুমি যা চাও তা-ই করো।’

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনয়ীও। তাঁর বিনয় প্রকাশ পেত তাঁর কথায়, তাঁর কাজে এবং তাঁর সকল অবস্থায়। এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হাঁটতেন, তখন এমনভাবে হাঁটতেন যেন তিনি ওপর থেকে নিচের দিকে নামছেন। আর হাদিসে এসেছে—তিনি যখন হাঁটতেন তখন তাঁর সাহাবিগণকে তাঁর আগে আগে চলার নির্দেশ দিতেন, যাতে তাঁর নিজের মনে কোনো রকম অহংকার না আসে। অহংকার হলো বিনয়ের বিপরীত। রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মধ্যে অণু পরিমাণও অহংকার ছিল না।

একবার এক বৃদ্ধা নারী তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে।’ তিনি বললেন, ‘হে অমুকের মা! মদিনার যে কোনো পথে তুমি চাও আমি তোমার সাথে বসে তোমার কথা শুনবো, তোমার প্রয়োজন পূরণ করব।’ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপছন্দ করতেন যে, মানুষ তাঁর আগমনে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করুক, যেমন হাদিসে এসেছে, সাহাবিগণ যখন রাসুলকে (সা.) দেখতেন, তখন তারা তার সম্মানে দাঁড়াতেন না, কারণ তারা জানতেন, তিনি এটা পছন্দ করেন না। এ রকমই ছিল রাসুলুল্লাহর (সা.) বিনয়। আল্লাহর কাছে বিনয়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ, যেমন হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।’

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’

আল্লাহ আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য মহাগ্রন্থ কোরআনে বরকত দান করুন, এবং আমাদেরকে ও আপনাদেরকে উপকৃত করুন এর আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশমালার দ্বারা। নিশ্চয়ই তিনি মহান, অতি দয়ালু, রাজাধিরাজ, পুণ্যবান ও পরম দয়ালু।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।