চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মুমিন বাড়ি মাদরাসা

শরীফুল ইসলাম শরীফুল ইসলাম , চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মুমিন বাড়ি মাদরাসা ছবি: জাগো নিউজ

মুসলিম পরিবারে নানা সীমাবদ্ধতায় ঐশিগ্রন্থ পবিত্র কোরআন সহিহ ও শুদ্ধভাবে পাঠ করতে না পারা মানুষের সংখ্যাই বেশি। আর এই সংখ্যা কমিয়ে আনতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি কোরআন প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কুমুরুয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুমিন বাড়ি মাদরাসা। শত বছর আগে এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন কারী ইব্রাহীম (রহ.)। তারই ধারাবাহিকতায় এখনও প্রতি রমজান মাসে এই মাদরাসায় বিভিন্ন বয়সী মানুষজন কোরআন শিক্ষা গ্রহন করছেন। মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

মূলত এই মাদরাসার কেরাত বিভাগের দেশ-বিদেশে সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে কেরাত বিভাগ সম্পন্ন করে দেশের বহু মাদরাসার কেরাত বিভাগ পরিচালনা করছেন শত শত শিক্ষক। বর্তমানে শুধু কেরাত বিভাগ নয়, এই মাদরাসায় হিফজুল কোরআন ও নুরানী বিভাগ রয়েছে।

এ বছর এই মাদরাসায় জেনারেল শিক্ষিতসহ বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা রমজানজুড়ে কোরআন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২৫ রমজান দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়। এই দোয়া অনুষ্ঠানে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মুমিন বাড়ি মাদরাসার মসজিদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার বহু মানুষ নামাজ আদায় করে। এই মাদ্রাসা চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের লোকদের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্র বিবেচিত হয়।

মাদরাসার পাশের চাপিলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ খান বলেন, এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে আশপাশের কয়েক গ্রামের মসজিদে প্রশিক্ষিত ইমাম ও মক্তবগুলোতে শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে। নামাজ আদায় ও কোরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে এর সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী।

মুমিন বাড়ির মাদরাসার একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা হয় মাদরাসার পাঠদান সম্পর্কে। তারা জানান, মাদারাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যন্ত দক্ষ হাফেজদের তত্ত্বাবধানে হিফজ বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর মাদরাসার হিফজ সম্পন্ন করা হাফেজ মুহাম্মদ জুবায়ের হোসেন, আবু সাঈদ, মো. শামছুদ্দিন ও আশরাফ আলী মাদরাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন।

মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. আশরাফ আলী খান বলেন, এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সহিহ ও শুদ্ধভাবে কোরআন শিক্ষার পদ্ধতি চলমান। পূর্বপুরুষদের সেই ধারাবাহিকতা তিনিও অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এই মাদারাসায় এসে আবাসিক এবং লজিং থেকে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছেন। এই ব্যবস্থাপনায় বহু বছর ধরে স্থানীয় কয়েক গ্রামের মানুষ সহযোগিতা করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাদরাসায় কেরাত বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগ অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত বেশ কয়েক বছর মাদরাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন। কয়েক যুগ ধরে এখানে কোন প্রকার বিনিময় ছাড়াই হাফেজরা তারাবি পড়াচ্ছেন। তিনি মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এমএসআই/ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।