জিকির ও দরূদবিহীন মজলিসে বসা যাবে কি?

ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২১

আল্লাহর জিকির ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরূদ পড়লে বরকত ও কল্যান আসে। কিন্তু যেসব মজলিসে বা বড় সমাবেশে আল্লাহর জিকির বা গুণগান-প্রশংসা এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়া হয় না; এমন মজলিস বা জনসভায় বসা কিংবা অংশগ্রহণ করা যাবে কি? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনাই বা কী?

যে মজলিস বা সমাবেশে আল্লাহর জিকর বা প্রশংসা করা হয় না কিংবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ পড়া হয় না; সে সব মজলিস কিংবা সমাবেশে বসা বা অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত-

. যারা মজলিসে বসে অথচ আল্লাহর জিকির করে না

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যেসব লোক কোনো দরবারে (মজলিস বা সমাবেশে) বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তাআলার জিকির (হামদ বা প্রশংসা) করেনি এবং তাদের নবির প্রতি দরূদও পড়েনি; তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। (অর্থাৎ এসব হতভাগাদের জন্য আক্ষেপ, আফসোস!) আল্লাহ তাআলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন আবার মাফও করতে পারেন।’ (তিরমিজি)

২. আল্লাহর জিকির ছাড়া মজলিস থেকে উঠে যাওয়া

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো কওমের (জাতি-গোষ্ঠীর) লোকেরা কোনো মজলিস বা সমাবেশে একত্রিত হওয়ার পর চলে গেলো; আর সেখানে তারা আল্লাহর জিকির বা তাকে স্মরণ করলো না; সে মজলিস বা সমাবেশ যেন গাধার শবদেহ অর্থাৎ মরা গাধা খাওয়ার অনুষ্ঠান থেকে উঠলো। এটি হবে তাদের জন্য আফসোস বা পরিতাপের কারণ!’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ, মুসতাদরেকে হাকেম)

৩. অন্য বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো স্থানে বসলো অথচ আল্লাহকে স্মরণ করলো না; তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনা। আর যে ব্যক্তি কোথাও শয়ন করার পর আল্লাহর নাম নিলো না তার জন্যও আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনা।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ)

সুতরাং মজলিস বা সমাবেশের কাফফারা হলো- সবশেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসা করা। যেভাবে এ কাফফারা আদায় করতে বলেছেন প্রিয় নবি; তাহলো-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, কিছু বাক্য যা কোনো ব্যক্তি মজলিস থেকে উঠার সময় তিনবার উচ্চারণ করলে তা তার ঐ মাজলিসের কাফফারা হবে। আর যদি উক্ত বাক্যগুলো কোনো উত্তম মজলিসে ও জিকিরের মজলিসে পাঠ করে তাহলে পুস্তিকায় সীল মোহর করার মতই তা তার জন্য স্থায়িত্ব লাভ করে। বাক্যগুলো হলো-

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

‘সুবহানাকা আল্লাহুমা ওয়া বিহামদিকা; লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।’

‘হে আল্লাহ! পবিত্রতা মহিমা আপনার, আমি আপনার প্রশংসা সহকারে শুরু করছি। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং অনুতপ্ত হয়ে আপনার কাছেই ফিরে আসছি।’ (আবু দাউদ, ইবনে কাসির)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, হজরত আবু বারযাহ আল-আসলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো বৈঠক শেষ করে চলে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন-

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

উচ্চারণ : ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা; আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লা আনতা; আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।’

‘হে আল্লাহ! পবিত্রতা মহিমা আপনার, আমি আপনার প্রশংসা সহকারে শুরু করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং অনুতপ্ত হয়ে আপনার কাছেই ফিরে আসছি।’

এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! এখন আপনি যে বাক্য পড়লেন তা তো এর আগে আপনি পাঠ করেননি? তিনি বললেন, মজলিসে যা কিছু (ভুলত্রুটি) হয়ে থাকে; একথাগুলো তার কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, দারেমি, মুসনাদে আহমাদ, মুসতাদরেকে হাকেম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, এমন সব মজলিস বা জনসভায় অংশগ্রহণ করা; যেখানে আল্লাহর প্রশংসা ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়া হয়। নতুবা এ জনসভা বা মজলিস মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এ মজলিস হতে পারে আফসোস বা আক্ষেপের বিষয়।

হাদিসের শিক্ষা হলো-

হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত প্রশংসা বাক্যে ভরপুর দোয়া দুইটি পড়ার মাধ্যমে মজলিস বা জনসভায় সংঘটিত ভুল থেকে বেঁচে থাকার আমল করা জরুরি।

আর মুমিন মুসলমানের উচিত, সে যেন সর্বশক্তিমান আল্লাহকে প্রতিটি জায়গায় সব সময় স্মরণ করে। তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য এই দোয়টি মুখস্থ করা এবং যে কোনো সভার শেষে পাঠ করা হলো একটি উত্তম ও সাওয়াবের কাজ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব মজলিস ও সমাবেশে তাকে স্মরণ করার তাওফিক দান করুন। মজলিস বা সমাবেশ শেষে হাদিসের অনুসরণ ও অনুকরণে উল্লেখিত দোয়া পড়ে মজলিসে বলা কথাগুলোর অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে গুনাহমুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]