মানুষের প্রতি ক্ষমার আচরণের নির্দেশ

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

মহান নৈতিকতার অধিকারী নবিজি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহর কৃত অনুগ্রহসমূহের একটি অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলা হচ্ছে যে, তোমার মধ্যে যে কোমলতা ও নম্রতা তা মহান আল্লাহর রহমতেরই ফল। আর দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য তো এই কোমলতার প্রয়োজন অনেক। তুমি যদি কোমল ও নরম না হয়ে কঠিন হৃদয়ের মালিক হতে, তাহলে মানুষ তোমার কাছে না এসে আরো দূরে সরে যেত। কাজেই তুমি মানুষের সঙ্গে আচরণে ক্ষমার ব্যবহার করতে থাক। কোআনুল কারিমে মহান আল্লাহ বিষয়টি এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-

فَبِمَا رَحۡمَۃٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنۡتَ لَهُمۡ ۚ وَ لَوۡ کُنۡتَ فَظًّا غَلِیۡظَ الۡقَلۡبِ لَانۡفَضُّوۡا مِنۡ حَوۡلِکَ ۪ فَاعۡفُ عَنۡهُمۡ وَ اسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ وَ شَاوِرۡهُمۡ فِی الۡاَمۡرِ ۚ فَاِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الۡمُتَوَکِّلِیۡنَ

‘আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলে; যদি তুমি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতে, তাহলে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়তো। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। এরপর তুমি কোনো সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর প্রতি নির্ভর কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর উপর) নির্ভরশীলদের ভালবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৫৯)

এ আয়াতে ঈমানদারদেরকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্ব ও কতৃত্বের গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে। যার ফলে মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেবে। এ আয়াতে ক্ষমা, নির্ভরতা, সংকল্প ও পরামর্শের উপদেশ এসেছে। যার সবই ছিল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে। এ আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যায় যা এসেছে, তাহলো-

হজরত আবু উমামা আল বাহেলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, ‘হে আবু উমামা! মুমিনদের মাঝে কারো কারো জন্য আমার অন্তর নরম হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ)

মহান নৈতিকতার অধিকারী নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহর কৃত অনুগ্রহসমূহের একটি অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলা হচ্ছে যে, তোমার মধ্যে যে কোমলতা ও নম্রতা তা আল্লাহর রহমতেরই ফল। আর দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য তো এই কোমলতার প্রয়োজন অনেক। তুমি যদি কোমল ও নরম না হয়ে কঠিন হৃদয়ের মালিক হতে, তাহলে মানুষ তোমার কাছে না এসে আরো দূরে সরে যেত। কাজেই তুমি মানুষের সঙ্গে আচরণে ক্ষমা ব্যবহার করতে থাক।

এছাড়াও কাজে-কর্মে এবং কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তাদের সাথে পরামর্শ করতেন নবিজি, এ আয়াতেও পরামর্শ গ্রহণের কথা বরা হয়েছে। যাতে অন্য সবার মনে প্রশান্তি আসতে পারে। এতে হেদায়াত দেয়া হয়েছে যে, কল্যাণ কামনার যে অনুরাগ তাদের অন্তরে বিদ্যমান, তা তাদেরকে পরামর্শের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে বলেছেন, ‘যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়, সে আমানতদার।’ (ইবনে মাজাহ) সে আমানতের সঙ্গে পরামর্শ দেবে, ভুল পথে চালাবে না এবং আমানত হিসেবেই সেটা তার কাছে রাখবে।

এ আয়াতে সমাজ সংস্কারক ও দ্বীন-প্রচারকদের জন্য কয়েকটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাহলো-

প্রথমত: আচার-ব্যবহার ও কথা-বার্তায় কঠোরতা পরিহার করা।

দ্বিতীয়ত: সাধারণ লোকদের দ্বারা কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে গেলে কিংবা কষ্টদায়ক কোনো বিষয় সংঘটিত হলে সে জন্য প্রতিশোধমুলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ক্ষমা প্রদর্শন করা এবং সদয় ব্যবহার করা।

তৃতীয়ত: তাদের পদস্খলন ও ভুলভ্রান্তির কারণে তাদের কল্যাণ কামনা থেকে বিরত না থাকা। তাদের জন্য দোয়া-প্রার্থনা করতে থাকা এবং বাহ্যিক আচার-আচরণে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার পরিহার না করা।

উল্লেখিত আয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রথমে তো সাহাবিদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারপর আচরণ-পদ্ধতি সম্পর্কে হেদায়াত দেওয়া হয়েছে।

পরামর্শ গ্রহণ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনের দুই জায়গায় সরাসরি নির্দেশ দান করেছেন। একটি হলো এই আয়াতে এবং দ্বিতীয়টি হলো সূরা আশ-শূরার সে আয়াতে যাতে সত্যিকার মুসলিমদের গুণবৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে একটি গুণ এই বলা হয়েছে যে-

‘(যারা সত্যিকার মুসলিম) তাদের প্রতিটি কাজ হবে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরস্পরের প্রতি ক্ষমার আচরণ দেখানোর তাওফিক দান করুন। নবিজির বৈশিষ্ট্যে নিজেদের রাঙানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।