যে পানির উৎস জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২

আল্লাহ তাআলা সুরা বাক্বারার ৬০ নং আয়াতে বলেন, ‘আর স্মরণ কর, যখন মুসা তার কওমর জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, ‘তুমি তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর’। ফলে তা থেকে উৎসারিত হল বারটি ঝরনা। প্রতিটি দল তাদের পানি পানের স্থান জেনে নিল। তোমরা আল্লাহর রিজিক থেকে আহার কর ও পান কর এবং ফাসাদকারী হয়ে জমিনে ঘুরে বেড়িয়ো না।’ এ আয়াতে বিবেকবানদের জন্য রয়েছে শিক্ষামূলক ঘটনা। যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পয়গাম্বর মুসার জন্য মুজিজা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ। সে পাথরের সংক্ষিপ্ত তথ্য ছিল এমন-

১. একটি ছোট পাথর থেকে ১২টি নহর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

২. এমন একটি ক্ষুদ্র পাথর থেকে ৬ লক্ষ বনি ইসরাইলের পানির প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহিত হয়।

৩. বনি ইসরাইলের ১২টি গোত্রের জন্য আলাদা আলাদা নহর প্রবাহিত হয়। প্রত্যেক গোত্রের সদস্য সংখ্যা এক সমান না হওয়া আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের জন্য আলাদা নহর প্রবাহিত করেন এবং প্রত্যেকেই তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান চিনে নেয়।

৪. পানির প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পর আবার দ্বিতীয় আঘাতের দ্বারা পাথর থেকে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়।

এ সব বিষয়গুলো সবই আল্লাহ তাআলার কুদরতের নিদর্শন। যে নিদর্শনগুলো বিবেকবানদের হেদায়েত পাওয়ার অন্যতম উপাদান।

কারো কারো মতে, এই ঘটনা তীহ প্রান্তরের এবং কারো কারো মতে সীনা মরুভূমির। সেখানে পানির প্রয়োজন দেখা দিলে মহান আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন, তোমার লাঠি পাথরে মারো। এইভাবে পাথর থেকে বারোটি ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়। গোত্রও বারোটি ছিল। প্রত্যেক গোত্র নিজের নিজের ঝরনা থেকেই পানি পান করেছিলো। আর এটাও ছিল একটি মুজিজা (অলৌকিক ঘটনা) যা আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের দ্বারা প্রদর্শন করেন।

এ ঘটনা শুধু বনি ইসরাইলদের জন্যই কুদরতের নিদর্শন নয় বরং উম্মাতে মুহাম্মাদির জন্যও শিক্ষণীয় ঘটনা। যে কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতির জন্য কোরআনে তা উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা উক্ত বিষয়গুলোর চিন্তা-ফিকিরের দ্বারা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।