দীন শেখানোর সওয়াব পাওয়া যাবে মৃত্যুর পরও

ওমর ফারুক ফেরদৌস
ওমর ফারুক ফেরদৌস ওমর ফারুক ফেরদৌস , আলেম ও লেখক
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

ইসলামে দীনি ইলম শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহর নবি-রাসুলদের অন্যতম আমল ও দায়িত্ব ছিল মানুষকে দীন শিক্ষা দেওয়া। কোরআনে নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৈশিষ্ট্য ও দায়িত্বের বিবরণ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

هُوَ الَّذِیْ بَعَثَ فِی الْاُمِّیّٖنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ.
তিনিই উম্মিদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের সামনে তার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে; তাদের পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তো তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে। (সুরা জুমা: ২)

তাই মানুষকে দীন শেখানোর দায়িত্ব পালনকারীরা নবিজির (সা.) উত্তরসুরী এবং তার দায়িত্ব পালনের সম্মানে সম্মানিত। আবু উমামা বাহেলী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট দুব্যাক্তির কথা উল্লেখ করা হল, একজন আবেদ (সাধারণ ইবাদত গুজার) অন্যজন আলেম (ইসলামি জ্ঞানে পারদর্শী) তিনি বললেন,

فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ
আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা ঠিক তেমন, যেমন তোমাদের সাধারণ ব্যাক্তির ওপর আমার মর্যাদা।

তারপর ইলম শিক্ষাদানকারীর অপরিসীম মর্যাদার কথা উল্লেখ করে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرَضِينَ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ
নিশ্চয় আল্লাহ, ফেরেশতাকুল, আসমানসমূহ ও জমিনের অধিবাসীগণ এমন কি গর্ত থেকে পিপিলিকা, পানির নিচ থেকে মাছও মানুষকে কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর জন্য দোয়া করতে থাকে। (সুনানে তিরমিজি: ২৬৮৫)

দীনি ইলম শিক্ষাদান সদকা জারিয়া বা ফায়েদা অব্যাহত থাকে এমন সদকার অন্তর্ভুক্ত। মৃত্যুর পরও দীন শেখানোর সওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

إِذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
আদম সন্তান যখন মারা যায়, তখন তার তিন প্রকার আমল ছাড়া অন্য সব আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়; ১. সদকায়ে জারিয়া (ফায়েদা অব্যাহত থাকে এ রকম সদকা যেমন মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করে দেওয়া ইত্যাদি) ২. ইলম বা জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে ৩. সুসন্তান যে তার জন্য নেক দোয়া করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম: ৪৩১০)

আরেকটি হাদিসে দীনি ইলম শিক্ষাদানের ‍সুযোগ লাভ করাকে ঈর্ষণীয় সৌভাগ্য উল্লেখ করে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

لا حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحَقّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا ويُعَلِّمُهَا
শুধু দুটি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়; ওই ব্যক্তিকে ঈর্ষা করা যায় যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং তা কল্যাণের পথে ব্যায় করার সুযোগও দিয়েছেন। ওই ব্যক্তিকেও ঈর্ষা করা যায় যাকে আল্লাহ জ্ঞান ও হিকমত দান করেছেন, যা দিয়ে সে ফায়সালা করে ও শিক্ষা দেয়। (সহিহ বুখারি: ৭৩, সহিহ মুসলিম: ১৯৩০)

ওএফএফ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।