সত্যের পথ ও ভ্রষ্টতার পথ

ফারুক ফেরদৌস
ফারুক ফেরদৌস ফারুক ফেরদৌস , সহ-সম্পাদক, জাগো নিউজ
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ২৭ মে ২০২৪

সুরা মুলক কোরআনের ৬৭তম সুরা, মক্কায় অবতীর্ণ সুরাটির আয়াত ৩০টি, রুকু ২টি। বেশ কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাতে এ সুরা পাঠ করলে কবরে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সুরাটি তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহর সাথে কাছে সুপারিশ করবে। সাহাবিরা এ সুরাটিকে ‘মানেআ’ বা কবরের আজাব প্রতিরোধকারী বলতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন,

سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً، تَشْفَعُ لِصَاحِبِهَا حَتَّى يُغْفَرَ لَهُ: تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ.

কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা আছে। যে ব্যক্তি নিয়মিত ওই সুরা পাঠ করবে তার জন্য সুরাটি ক্ষমা আদায় করা পর্যন্ত সুপারিশ করতে থাকবে। সে সুরা হল, ‘তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক’। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০, সুনানে তিরমিজি: ২৮৯১)

সুরা মুলকের আলোচ্যবিষয় আল্লাহর বড়ত্ব, তার ক্ষমতার বিভিন্ন নিদর্শন, আখেরাতের জীবন, মুমিনদের পুরস্কার, কাফেরদের শাস্তি ইত্যাদি।

সুরা মুলকের ২০-৩০ আয়াতে আল্লাহ বলেন,

(২০)

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُنْدٌ لَكُمْ يَنْصُرُكُمْ مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ

আম্মান হাযাল্লাযী হুওয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দূনির রাহমানি ইনিল কাফিরূনা ইল্লা ফী গুরূর।
পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি কোন সৈন্যবাহিনী আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফেররা তো কেবল ধোঁকার মধ্যে পড়ে আছে।

(২১)

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَلْ لَجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ

আম্মান হাযাল্লাযী ইয়ারঝকুকুম ইন আমছাকা রিঝকাহূ বাল্লাজ্জূ ফী উতুওয়িও ওয়া নুফূর।
অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিজিক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় ডুবে আছে।

(২২)
أَفَمَنْ يَمْشِي مُكِبّاً عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّنْ يَمْشِي سَوِيّاً عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আফামাইঁ ইয়ামশী মুকিব্বান আলা ওয়াজহিহী আহদা আম্মাইঁ ইয়ামশী সাওয়িইয়ান আলা সিরাতিম মুসতাকীম।
যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?

(২৩)
قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلاً مَا تَشْكُرُونَ
কুল হুওয়াল্লাযী আনশাআকুম ওয়া জাআলা লাকুমুস সামআ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা তাশকুরূন।
বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদেরকে দিয়েছেন শোনার ও দেখার শক্তি আর অন্তঃকরণ; তোমরা খুব অল্পই শোকর আদায় করে থাক।

(২৪)
قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
কুল হুওয়াল্লাযী যারাআকুম ফিল আরদি ওয়া ইলাইহি তুহশারূন।
বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।

(২৫)
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ
ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা হাযাল ওয়াদু ইন কুনতুম সাদিকীন।
আর তারা বলে, সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

(২৬)

قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ
কুল ইন্নামাল ইলমু ইনদাল্লাহি ওয়া ইন্নামা আনা নাযীরুম মুবীন।
বল, সে জ্ঞান তো কেবল আল্লাহর কাছেই আছে, আমি শুধু একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।

(২৭)

فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تَدَّعُونَ

ফালাম্মা রাআওহু ঝুলফাতান সীআত ঊজূহুল্লাযীনা কাফারূ ওয়া কীলা হাযাল্লাযী কুনতুম বিহী তাদ্দাঊন।
অতঃপর তারা যখন তা আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফেরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, এটাই হল তা, যা তোমরা দাবী করছিলে।

(২৮)

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللهُ وَمَنْ مَعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَنْ يُجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

কুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লাহু ওয়া মাম্মাইয়া আও রাহিমানা ফামাইঁ ইউজীরুল কাফিরীনা মিন আযাবিন আলীম।
বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি আমাকে আর আমার সঙ্গী সাথীদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের উপর দয়া করেন, (তোমাদের পরিণতি তো একই থাকবে) মর্মান্তিক শাস্তি থেকে কাফেরদেরকে বাঁচাবে কে?

(২৯)

قُلْ هُوَ الرَّحْمَنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ

কুল হুওয়ার রাহমানু আমান্না বিহী ওয়াআলাইহি তাওয়াক্কালনা, ফাসাতা‘লামূনা মান হুওয়া ফী দালালিম মুবীন।
বল, তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে?

(৩০)

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْراً فَمَنْ يَأْتِيكُمْ بِمَاءٍ مَعِينٍ

কুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাইঁ ইয়া’তীকুম বিমাইম মাঈন।
বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?

এ আয়াতগুলো থেকে যে শিক্ষা ও নির্দেশনা আমরা পাই:

১. কাফেরদের দীনের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করার কারণ হলো তারা ডুবে থাকে শয়তানের তৈরি করা বিভ্রমের মধ্যে। সত্য উপলব্ধি করার আন্তরিক কোনো প্রচেষ্টাই তাদের মধ্যে থাকে না।

২. মুমিনদের পথ যৌক্তিক, ন্যায়, সত্য ও সরল; আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনার আলোকে তারা দৃঢ় ও অবিচলতার সাথে পথ চলে। বিপরীতে কাফেরদের পথ ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতায় পরিপূর্ণ।

৩. আল্লাহ আমাদেরকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টি শক্তি ও চিন্তা শক্তি দান করেছেন; এগুলো কাজে লাগিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করা, সত্যের অনুসরণ করা আমাদের কর্তব্য।

৪. প্রত্যেকেই তার কাজের জন্য দায়ী। প্রত্যেককেই নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হবে। কাফেররা মুমিনদের ধ্বংস কামনা করে। কিন্তু মুমিনরা ধ্বংস হয়ে গেলেও আল্লাহর শাস্তি থেকে তারা বাঁচতে পারবে না।

৫. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা মুমিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। ইমান আনার পর সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা জরুরি।

ওএফএফ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।