হজের সময় নির্ধারণ ও করণীয়


প্রকাশিত: ০৭:০১ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬

হজ ও ওমরার সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়। যে ব্যক্তি হজ ও ওমরা পালনে বেশি পরহেজগারী হবে সে তত লাভবান হবে। হজ ও ওমরায় করণীয় বিধানে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট বিধান নাজিল করেছেন। হজের সে মাসগুলোতে কুরআনে উল্লেখিত নিষিদ্ধ কাজগুলো করা যাবে না। এ সব বিষয়ে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে বিধান জারি করেছেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে হজের মাসের সময় ও হজ-ওমরায় করণীয় সম্পর্কে বলেন-

Quran

আয়াতের অনুবাদ

Quran

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ১৯৭নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে হজের সময় সুনির্দিষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। এবং হজ ও ওমরার সময়গুলোতে কোন কোন কাজ করা যাবে আর কি কাজ করা যাবে না সর্বোপরি হজের সফরের উত্তম পাথেয় কি তাও বর্ণনা করেছেন।

ওমরা বছরজুড়ে আদায় করা যায় এবং সবসময়ই ইহরাম বাঁধা যায়। কিন্তু হজের জন্য নির্ধারি কয়েকটি মাস থাকে। আর হজের ইহরামও বাঁধতে হয় নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বেই।

কুরআন নির্দেশিত এ সময়গুলোতে যারা ইহরাম বাধবে তারাই হজ করতে পারবে। হজের উদ্দেশ্যে গমনের সময়টিও হজর সফর হিসেবে পরিগণিত হবে।

তবে হজের মাস নির্ধারিত আছে বলে উল্লেখ করা হলেও কুরআনে মাসের নাম উল্লেখ করা হয়নি। হজের মাস হলো শাওয়াল, জিলক্বদ এবং জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন। যদিও হজের আরকান তথা মূল কার্যক্রম জিলকদ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই শুরু হয় তথাপিও হজের ইহরাম শাওয়াল মাস থেকেই করা যায়।

হজ ইসলামের পঞ্চম রুকন। যেভাবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মানুষের ওপর ফরজ। আবার বছরে একমাস (রমজান) রোজা পালন করা ফরজ। সম্পদের মালিক যারা তাদের শতকরা আড়াইভাগ হারে জাকাত দেয়া ফরজ। তেমিন শারীরিক এবং আর্থিক সামর্থ্যবানদের জীবনে একবার হজ সম্পাদন করা ফরজ।

হজের সময় ইহরামের পর কোনোভাবেই যৌন সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ, পাপাচার এবং বিবাদ-কলহ , হত্যা ইত্যাদি মানবতা বিবর্জিত কোনো কাজ করা যাবে না।

হজ মানুষের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ও রহমত। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা পরহেজগারীকে হজের সর্বোত্তম পাথেয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তাআলা হজের সময় কঠিন অপরাধীকেও ক্ষমা করে দেন।

পড়ুন- সুরা বাকারার ১৯৬ নং আয়াত

পরিষেশে...
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ধারিত মাসে ইহরাম বাঁধলে তাকে হজ আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেছেন। অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সর্বোত্তম পাথেয় পরহেজগারী অর্জনের নির্দেশের পাশাপাশি ক্ষমা ও গোনাহমুক্ত জীবন লাভে তাঁকে ভয় করার জন্য বলেছেন।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে নির্ধারিত সময়ে হজ সম্পাদন করার তাওফিক দান করুন। অন্যায় ও পাপাচারমুক্ত থাকার পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার ঘোষিত সর্বোত্তম পাথেয় তাকওয়া অর্জন করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া পরকালের কল্যাণ ও সফলতা লাভে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে তাঁর বিধিবিধান পালনের তাওফিক দান করুন।  আমিন।

এমএমএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।