আজান ও ইক্বামতের সময় দোয়ার ফজিলত


প্রকাশিত: ০৫:৪৩ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭

দোয়া হলো ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি আল্লাহ ব্যতীত এমন কারো ইবাদত করো না, যে তোমার ভালো-মন্দ কিছুই করতে পারে না।’ (সুরা ইউনুস : আয়াত ১০৬)

মানুষের প্রয়োজন পূরণে আল্লাহ তাআলার সমীপে দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর কাছে চাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (সুরা মুমিন : আয়াত ৬০)

আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করার কিছু সময় ও স্থান রয়েছে। যে সময় ও স্থানে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়া পাওয়া কবুল করেন।

আজান ও ইক্বামতের মাঝে দোয়া, আজান চলাকালীন সময়ে এবং আজানের পর দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সে দোয়া ফিরিয়ে দেন না। এ সময় দোয়া কবুলের বিষয়টি অনেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান এবং ইক্বামতের মাঝের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, মিশকাত)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজ্জিনের মর্যাদা যে আমাদের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমিও তাই বল, মুয়াজ্জিন যা বলে। তারপর আজান শেষ হলে (আল্লাহর কাছে) চাও, যা চাইবে (তাই) প্রদান করা হবে। (আবু দাউদ, মিশকাত)

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে আজানের শব্দগুলো যে বলবে, সে জান্নাতে যাবে। (মুসলিম, আবু দাউদ, মিশকাত)

অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি আজান শুনে বলবে-

Fazilat


উচ্চারণ

আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারিকা লাহু। ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আ’বদুহু ওয়া রাসুলুহ; রাদিতুবিল্লা-হি রাব্বাওঁ ওয়া ওয়া বিমুহাম্মাদির রাসুলাওঁ ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা।

অর্থ
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত (ইবাদতের উপযুক্ত) কোনো উপাস্য নেই এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি আল্লাহকে রব হিসাবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রাসুল হিসাবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মেনে নিয়েছি।’

তাহলে তার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে। (মুসলিম আবু দাউদ, মিশকাত)

পরিশেষে...
দোয়া হলো আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কারণ দোয়া প্রার্থনার সময় বান্দা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি ছোট হয়ে কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ছোট হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো চায়। যেখানে সাধারণ শিরকের কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

আর আজান ও ইক্বামতের সময় দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ সময় দোয়া করার ফজিলতও অনেক বেশি। তাই মানুষের প্রার্থনা কবুলে আজান ও ইক্বামতের সময়ের দোয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আমল করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রয়োজন পূরণে ক্ষমা লাভে আজান ও ইক্বামতের সময়ে প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস