হজে নারীদের ইহরামের পোশাক ও পর্দা

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ এএম, ০৫ আগস্ট ২০১৭

হজ ও ওমরার জন্য নারীদের ইহরামের পোশাকের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত পুরুষের মতো কোনো পোশাক নির্দিষ্ট করে দেয়নি। নারীদের ইহরামের পোশাক সেলোয়ার কামিজ হতে হবে আবার তা সাদা হতে হবে এমন কোনো বিষয়ও নির্ধারিত নেই।

নারীদের ইহরামের পোশাক
নারীরা হজ ও ওমরা পালনের জন্য ইহরামের পোশাক হিসেবে যে কোনো ধরনের শালীন পোশাকই পরিধান করতে পারবে। তারা এমন পোশাক পরিধান করবে যাতে পর্দার খেলাপ এবং কু-দৃষ্টি ও ফেতনার আশংকা না হয়।

তথাপিও তাদের পোশাক নির্বাচনে কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি। আর তাহলো-
>> ভালোভাবে সতর ঢাকা যায় এমন পোশাকই নারীরা ইহরাম অবস্থায় পরিধান করবে।
>> আঁট-সাঁট, ফিটিংস; শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না।
>> খুব রংচটে পোশাক পরিধান করা যাবে না; যা পরিধান করলে অন্য পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইহরাম অবস্থায় পর্দা
তবে ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য নিকাব দিয়ে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো মুহরিম মহিলা মুখ ঢাকবে না। (বুখারি)

তবে ইহরাম অবস্থায় নারীরা গাইরে মাহরাম থেকে নিজেদের চেহারা সংরক্ষণ করতে পারবে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সফর করতাম। এ সময় আমাদের চেহারা খোলা থাকত। আমাদের পাশ দিয়ে কোনো (গাইরে মাহরাম) পুরুষ অতিক্রম করলে মাথা থেকে চাদরের আঁচল টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার খুলে ফেলতাম। (বুখারি)

নারীদের ইযতিবা
ইযতিবা হলো বীরদর্প প্রকাশে বাহাদুরি স্টাইলে ইহরামের পোশাক পরিধান করা। ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে মতামত হলো- নারীদের জন্য ইহরামের সময় পুরুষের মতো ‘ইযতিবা’করা লাগবে না।

কারণ ইজতিবা হলো
ইহরামের চাদরের মধ্যাংশ ডান বগলের নিচে এবং দুই মাথা বাম কাঁধের ওপর দিয়ে সামনে ও পিছনে ফেলে রাখা।

মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে হজ ও ওমরা পালনের সময় ইহরামের পোশাক পরিধান এবং পর্দা পালনে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ যত্নবান হওয়া জরুরি।

আল্লাহ তাআলা নারীদের হজ ও ওমরা সম্পাদনে যথাযথ নিয়মগুলো পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :