সীমান্ত সংঘাত
আফগানিস্তানে হামলায় ৭২ জনকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তের অন্য প্রান্ত থেকে ‘উসকানিমূলক গুলি’ চালানোর জবাবে এ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররম ও বাজাউর সেক্টরের বিভিন্ন স্থানে আফগান তালেবান বাহিনী উসকানিমূলকভাবে গুলি চালায় বলে দাবি ইসলামাবাদের।
চলমান সংঘর্ষে পাকিস্তানের দুই নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে আফগান তালেবানের ৭২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন>>
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, প্রতিশোধের হুমকি তালেবানের
পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান, সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ কী?
পাকিস্তানের হাত ছেড়ে আফগানিস্তান কেন ভারতমুখী হলো?
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে একটি গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছে।
Operation Ghazab Lil Haq / Update#Kabul, #Afghanistan 3 AM, 27th February 2026#آپریشن_غضب_للحق #OperationGhazabLilHaqq pic.twitter.com/TZmxccaJLn
— PTV News (@PTVNewsOfficial) February 26, 2026
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, আফগান দিক থেকে হামলার জবাবে পাল্টা আঘাতের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং একাধিক দফায় তা কার্যকর করা হয়েছে।
তার দাবি, ‘মোট ৭২ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ১২০ জনের বেশি আহত হয়েছে। ১৬টি পোস্ট ধ্বংস এবং সাতটি পোস্ট দখল করা হয়েছে।’
এছাড়া একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো, একটি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর এবং একটি সেক্টর সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৬টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে পাকিস্তান বদ্ধপরিকর। প্রয়োজন হলে আরও পাল্টা হামলা চালানো হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী সবসময় প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
শাহবাজ বলেন, ‘আমাদের বাহিনী যেকোনো আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুঁড়িয়ে দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম। প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’
পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারারও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য পুনর্ব্যক্ত করে জানান, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিটি আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: ডন
কেএএ/