হজরত আবু বকরকে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৪ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ ঈমানদার ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতিটি কাজেই আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করেন। জিকির-আজকারে অতিবাহিত হয় মুমিনের প্রতিটি ক্ষণ। এছাড়া প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় উম্মতকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ তাআলার জিকির আজকার করার উপদেশ দিয়েছেন।

আল্লাহর জিকিরেই সিক্ত হয় মুমিনের অন্তর। এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিভিন্ন আমল জেনে নিতেন এবং সে অনুযায়ী আমল ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করতেন।

ইসলামের প্রথম খলিফা ও প্রিয় নবির হিজরতের সঙ্গেী হজরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনিও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চান সকাল সন্ধ্যায় পড়ার তাসবিহের আমল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার তাসবিহও বলে দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি দোয়া কথা বলুন, যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বল-
اَللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَطِرَ السَّمَوَاتِ وَ الْاَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيئٍ وَ مَلِيْكِهِ أَشْهَدُ أنْ لَّا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ يَفْسِىْ وَ مِنْ سَرِّ الشَيْطَانِ وَ شِرْكِهِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি ফাত্বিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালিকিহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আউজুবিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া মিন শাররি শায়ত্বানি ওয়া শিরকিহি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! (আপনি) দৃশ্য-অদৃশ্য সব বিষয় অবগত; আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তা; প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই- আমার মনের (নফসের) অনিষ্টতা থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে এবং শিরক থেকে।’- এ দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় এবং শয্যায় (ঘুমাতে) যাওয়ার সময়ও বলবে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শেখানো প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ দোয়া রয়েছে আল্লাহ তাআলার জাত ও সিফাতের ঘোষণা। রয়েছে সবচেয়ে বড় অনিষ্টতা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘোষণা। যা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্যও জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেখানো দোয়াটি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার তাওফিক দান করুন। এ দোয়া পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ একত্ববাদ ও শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সব অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমকেএইচ