কুরআন কার কিতাব? এ প্রশ্নের উত্তরে শুরু হবে আজকের তারাবিহ

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ০৫ মে ২০২১

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারিম কে পাঠিয়েছেন এ প্রশ্নের উত্তরে শুরু হবে ২৩ রোজার প্রস্তুতির তারাবিহ। তারপরই আল্লাহ তাআলার একত্ববাদে অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে কঠিন প্রশ্ন- তোমরা যার ইবাদত কর, তারা পৃথিবীতে কোনো কিছু সৃষ্টি করেছে কি? তা ঘোষণা করে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-

حم - تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ - مَا خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُّسَمًّى وَالَّذِينَ كَفَرُوا عَمَّا أُنذِرُوا مُعْرِضُونَ - قُلْ أَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ اِئْتُونِي بِكِتَابٍ مِّن قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِّنْ عِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

'হা-মীম। এই কিতাব (কুরআনুল কারিম) পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আমি যথাযথভাবেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যেই সৃষ্টি করেছি। আর কাফেররা (অবিশ্বাসীরা) যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (হে রাসুল! আপনি অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে) বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও তো আমাকে তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে? অথবা নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোনো অংশ (অবদান) আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোনো জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।' (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ১-৪)

এ আয়াতে কারিমায় মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কুরআন ও আল্লাহর একত্ববাদের বিষয়ে সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের অপারগতা ও ভিত্তিহীন কাজের বর্ণনা এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-

وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَومِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ

'যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর।' (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ৫)

পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ তাআলা উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। তার একত্ববাদের ওপর অবিচল থাকে এবং তাওহিদের স্বীকৃতি দেয়। তাদের চিন্তা ও ভয় নেই আর তাদের প্রতিদান সরাসরি জান্নাত। আল্লাহ তাআলা এ বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেন-

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ - أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

'নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ অতঃপর (এ ঘোষণায়) অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। তারাই জান্নাতের অধিকারী! তারা তথায় চিরকাল থাকবে। তারা যে কর্ম করত, এটা তারই প্রতিফল।' (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ১৩-১৪)

সুরার শেষ দিকে একাধিক আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কুরআনকে সত্য কিতাব বলে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। অবিশ্বাসীদের কাছে কুরআনের সত্যতার বার্তা পাঠিয়েছেন এভাবে-

- وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ

'যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা কুরআন তেলাওয়াত শুনছিল। তারা যখন কুরআন তেলাওয়াতের জায়গায় উপস্থিত হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন তেলাওয়াত শেষ হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে ফিরে গেল।' (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ২৯)

-قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ

তারা (জিনেরা) বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাব (কুরআন তেলাওয়াত) শুনেছি, যা মুসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব আগের সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে, সত্যধর্ম ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ৩০)

-يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন। (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ৩১)

- وَمَن لَّا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِن دُونِهِ أَولِيَاء أُوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মানবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তার কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরনের লোকই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।' (সুরা আহক্বাফ : আয়াত ৩২)

নাজাতের দশকের তৃতীয় তারাবিহতে আজ সুরা আহক্বাফ, সুরা মুহাম্মাদ, সুরা ফাতহ এবং সুরা হুজরাত পড়া হবে। সে সঙ্গে শেষ হবে ২৬তম পারার তেলাওয়াত। আজও রোজাদার মুমিন মুসলমান লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করবে। ক্ষমা প্রার্থনায় রাত কাটাবে ইতেকাফকারীরা। কুরআনুল কারিমের সুন্দর বর্ণনায় হৃদয় ও মন জুড়াবে তারাবিহতে অংশগ্রহণকারীরা।

সুরা আহক্বাফ : আয়াত ৩৫

সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ। আহক্বাফ ইয়েমেনের একটি জায়গার নাম। যেখানে আদ জাতির বসবাস ছিল। এ সুরায় আদ জাতির নাফরমানির কারণে তাদের ধ্বংসের বিবরণ স্থান পেয়েছে। যাতে অবিশ্বাসী নাফরমানদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

সুরাটির প্রথম আয়াতে একটি বিষয় সুস্পষ্ট করা হয়েছে, যারা ঈমান না আনা সত্ত্বেও যারা গরিব-দুঃখী সাহায্য করে, ‍দুর্গতদের মাঝে মানবিক সেবা প্রদান করে, তাদের সেবা ও সাহায্য কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ বলেন-

‘যারা বিশ্বনবির নবুয়তকে অস্বীকার করে এবং পবিত্র কুরআনের সত্যতাও মানে না, তদুপরি মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে, তাদের যাবতীয় সৎকাজ বরবাদ হয়ে যায়। কেননা ঈমান ও ইখলাস ব্যতিত আল্লাহর কাছে কোনো নেক আমলই গ্রহণযোগ্য হয় না।'

এ সুরার সর্বশেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নাফরমান, পাপিষ্ঠদের অনিবার্য ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং এক আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাসী হওয়াই হলো বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষের আবশ্যক কর্তব্য।

সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ৩৮

মাদানায় অবর্তীণ সুরা মুহাম্মাদ-এর আরেকটি নাম হলো ক্বিতাল। কারণ এ সুরায় আল্লাহ তাআলা জিহাদের কথা আলোচনা করেছেন। এ সুরার মূল বক্তব্য আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন-

যারা কাফের তথা অস্বীকারকারী, তাঁরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দুশমন, তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে; বিশ্বনবির সত্য-সাধনায় বাধা প্রদান করে; তাদের যাবতীয় সৎকাজ ব্যর্থ। অতঃপর এ সুরায় মুসলমানদেরকে জিহাদের আদেশ দেয়া হয়েছে; এবং মুসলমানদের বিজয়ের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ কথার ঘোষণা এসেছে যে, মুসলমান জাতি কখন আল্লাহ তাআলার সাহায্য লাভের যোগ্য বিবেচিত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ

'হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন।' (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ৭)

আল্লাহ তাআলা তার পথে সাহায্যকারীদের যে জান্নাত দান করবেন। সে জান্নাতের ৪টি নহরের বিশেষ নেয়ামতের বর্ণনা এভাবে তুলে ধরেছেন-

مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاء غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاء حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءهُمْ

পরহেজগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপ- তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর; যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়। পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেজগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?' (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ১৫)

এসব নেয়ামতের বর্ণনার পর মুমিন মুসলমানের করণীয় কী হবে তা জানিয়ে বিশ্বনচিবর প্রতি আল্লাহ তাআলা এ মর্মে নির্দেশ দেন-

فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ

জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।' (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ১৯)

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আরও নির্দেশ দেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের (সা.) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।' (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ৩৩)

সুরা শেষ দুই আয়াতে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে এবং কৃপণতা না করার উপদেশ দেয়া হয়েছে। যারা ব্যয় না করে কৃপণতা করবে তাদের পরিণতিও তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِن يَسْأَلْكُمُوهَا فَيُحْفِكُمْ تَبْخَلُوا وَيُخْرِجْ أَضْغَانَكُمْ

'তিনি তোমাদের কাছে ধন-সম্পদ চাইলে অতঃপর তোমাদেরকে অতিষ্ঠ করলে তোমরা কার্পণ্য করবে এবং তিনি তোমাদের মনের সংকীর্ণতা প্রকাশ করে দেবেন।' (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ৩৭)

هَاأَنتُمْ هَؤُلَاء تُدْعَوْنَ لِتُنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمِنكُم مَّن يَبْخَلُ وَمَن يَبْخَلْ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَن نَّفْسِهِ وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنتُمُ الْفُقَرَاء وَإِن تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ

'শুন, তোমরাই তো তারা, যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহবান জানানো হচ্ছে, অতঃপর তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করছে। যারা কৃপণতা করছে, তারা নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করছে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্থ। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না।' (সুরা মুহাম্মাদ: আয়াত ৩৮)

এ সুরায় মক্কার কাফেরদের ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে মদিনার মুনাফিকদের চক্রান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এ সুরার সমাপ্তিতে মুসলিম জাতিকে আল্লাহর রাহে জিহাদের আহ্বান করা হয়েছ। কেননা জিহাদের মাধ্যমেই মুসলিম জাতি বিজয় ও সাফল্য অর্জন করতে পারে।

সুরা ফাতহ : আয়াত ২৯

প্রকাশ্য বিজয়ের ঘোষণা এসেছে এ সুরায়। যা মক্কা বিজয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছিল। সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ। যা ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধিকে কেন্দ্র করেই নাজিল হয়।

আলোচ্য সুরায় মুসলমানদের বিজয়ের সুসংবাদ রয়েছে। প্রকৃত ‍মুমিনদের গুণাবলী, ইখলাস, ত্যাগ-তিতিক্ষা, ধৈর্য ও সহনশীলতা সর্বোপরি আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও পরিপূর্ণ আনুগত্য প্রভৃতি গুণাবলীর কারণে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে যে সুস্পষ্ট ও মহান বিজয় দান করেছেন এ সুরায় তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

সুরা হুজরাত : আয়াত ১৮

এ সুরাটিও মদিনায় অবতীর্ণ। ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা। এ সুরায় বিশ্বনবির মর্যাদা ও সুন্নাতের মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য শ্রেষ্ঠ নিয়ামক। মুসলমানদের ঈমান উপযোগী আদব-কায়দা ও নিয়ম-নীতির শিক্ষা দেয়া হয়েছে এ সুরায়। কোনো কিছু শুনার পর সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে সে বিষয়ে সুক্ষ্ন, বিশ্বস্তসূত্র ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

সামাজিক ও সামষ্টিক জীবনে ভাঙ্গন, বিপর্যয় বা অশান্তি সৃষ্টি করে এমন সব অন্যায় ও অনুচিত কাজ-কর্ম হতে বিরত থাকতে মুসলিম উম্মাহকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এ সুরায়। যেমন-পরস্পরকে ঠাট্টা-বিদ্রোপ, গালাগালি, মন্দ নামে ডাকা, অন্যের ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ ও পরনিন্দার চর্চা করা।

সর্বোপরি এ সুরায় সাধনার মাধ্যমে মুসলমানের আত্মশুদ্ধি অর্জনের বিষয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]