ফেরেশতাদের পরিচয়

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৮ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫

সুরা বাক্বারা ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা আকাশ-পৃথিবী ও জগতের সমূদয় সৃষ্টির সৃষ্টা হিসেবে নিজেকে ঘোষনা দিয়েছেন। ফেরেশতারাও এর অন্তর্ভূক্ত। এবং পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রতিনিধি (মানুষ) সৃষ্টির ব্যাপারে ফেরেশতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কে বা কারা ফেরেশতা? তাদের কাজই বা কি? তাদের পরিচয়ে তুলে ধরা হলো-

ফেরেশতারা আল্লাহ তাআলা এক অনুগত সৃষ্টি। যাদের বাসস্থান আসমান। আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনায় সর্বদা ব্যস্ত তারা। আল্লাহর নির্দেশ পালন করে কখনো তার অবাধ্য হয় না। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, ‘ফেরেশতারা এমন নুরানি মাখলুক, যারা বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারেন এবং তারা কখনো আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করেন না, বরং সর্বদা আল্লাহর নির্দেশ পালনে রত থাকেন। বস্তুত ফেরেশতারা নূর বা জ্যোতি থেকে সৃষ্ট। তাদের নিজস্ব জগতে তাদের আকার আকৃতি আছে কিন্তু বান্দার কাছে তাদের প্রকাশ্য কোনো আকার আকৃতি নেই। তবে তারা বিভিন্ন আকার ধারণ করতে পারেন। যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তারা মানুষের মতো রক্তে-মাংসের সৃষ্টি নয়।
হাদিসে এসেছে-
Fereshta-Inner
‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ফেরেশতারা নূর হতে, জিনেরা অগ্নি স্ফুলিঙ্গ হতে, আর আদম আলাইহিস সালাম মাটি হতে সৃষ্ট। (মুসলিম)

মানুষের যেমন কামনা-বাসনা-চাহিদা ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাদের কামনা-বাসনা, ক্ষুধা-তুষ্ণা, তন্দ্রা-নিদ্রা এমনকি কোনো চাহিদার প্রয়োজনীয়তাও নেই। ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। আল্লাহ যখন যা হুকুম তখন তাই পালন করে থাকেন।
কুরআনে এসেছে,‘মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)
এই পৃথিবীতে আল্লাহর পক্ষ হতে যত রহমত বা শাস্তি নাজিল করেন তা এ ফেরেশতাদের মাধ্যমে নাজিল করেন। নবি-রাসুলগণের নিকট আসমানি কিতাবও এসেছে তাদের মাধ্যমে। তাদের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার আমলনামা লিপিবদ্ধ করে থাকেন এবং বান্দার রুহ কবজ করে থাকেন। তাদের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার ভালো ও মন্দ কাজের সাক্ষ্য নেবেন।
কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা পর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনায়ন করা কথা বলেছেন। ফেরেশতারা আল্লাহর অনুগত সৃষ্টি অন্তরে এ বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক মুসলমানের উপর আবশ্যক কর্তব্য। সুতরাং আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের অন্তরে এ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/আরআইপি