ঘর ভাড়া বাঁচাতে রিকশাকেই ঘর বানিয়েছেন সাইদুল


প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ০৯ জুন ২০১৬

দুপুর আনুমানিক ১টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বিপরীত দিকের রাস্তায় একটি বট গাছের নীচে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি রিকশা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছেন রিকশাচালকরা। ভ্যাপসা গরমে তাদের কেউ খালি গায়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে আবার কেউবা সিটের ওপর মাথা রেখে পা দুটো সটান সোজা করে ঘুমাচ্ছেন। রমজানের দুপুরে রাস্তাঘাটও অনেকটা ফাঁকা।

রমজানে ভ্যাবসা গরমে কেমন কাটছে রিকশাচালকদের জীবন এ কৌতুহল থেকে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কথায়  উঠে আসে সম্প্রতি সময়ে পরিবর্তিত জীবনের বেশ কিছু দিক।

মাদারীপুর জেলা সদরের সিন্নাদি বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা সুঠাম দেহের অধিকারি রিকশাচালক সাইদুল রহমান।

তিনি জানান, দুই সন্তান ও স্ত্রী গ্রামে থাকেন। ঢাকায় তার কোন ঘরবাড়ি নেই। গোটা ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটই তার ঘরবাড়ি। যেখানে রাত সেখানে কাইত। রাস্তার পাশের হোটেল তার রান্নাঘর। যখন ক্ষুধা লাগে তখনই খেয়ে নেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সাইদুল আরো জানান, কেরানীগঞ্জের একটি গ্যারেজ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা ভাড়ায় রিকশা নিয়ে চারমাস আগে বের হয়েছেন। এর মধ্যে এক দিনের জন্যেও সেখানে যাননি। প্রতিদিন ওই এলাকা থেকে যে সব রিকশা চালকরা আসেন তাদের কাছে জমার টাকা দিয়ে পাঠান।

Saidul

কেন গ্যারেজে নিয়মিত যাননা এমন প্রশ্নে সাইদুল জানান, ঢাকা শহরে ঘরবাড়ির যে ভাড়া তা পরিশোধ করে আরামে তিনি থাকতে পারলেও গ্রামে তার পরিবারের চার পাঁচ সদস্যের বেঁচে থাকা মুশকিল হবে।

তিনি জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় রিকশা নিয়ে বের হন। সকাল ১০টা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত শরীরে জগন্নাথ হলের এই স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

সাইদুল জানান, রোজার মাসের সকাল বেলা তেমন যাত্রী থাকেনা। দুপুরের পরে মানুষের বাড়ি ফেরার তাড়া শুরু হয়। তিনিও বিকেল  থেকে রাত অবধি রিকশা চালান। রাতে প্রয়োজনে শাহবাগে  একটু ঘুমিয়ে নেন। যেদিন গ্রামের বাড়িতে যান সেদিনই গ্যারেজে ফিরে রিকশাটা জমা দিয়ে গ্রামের বাড়ি রওয়ানা হন।

আয় রোজগার কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সত্যি কইলে তো আর লইয়া যাবেন না, সারাদিন রিকশা চালালে খেয়ে পরে হাজার খানেক টাকা আয় থাকে।  এছাড়া শরীর সুস্থ থাকলে যে কোন রিকশাওয়ালার জন্য এক হাজার টাকা রোজগার করা কোন ব্যাপারই না। তার কথায় সায় মেলালেন একই এলাকার রিকশাচালক সারোয়ার হোসেন।

সাইদুলের মতো সারোয়ারও রাস্তাঘাটেই থাকেন। তার সুবিধা হলো রিকশাটা তার নিজের তাই দৈনিক টাকা জমা দেয়ার ঝামেলা নেই।

তিনি বললেন, ঘরবাড়ি করলেই খরচ বাড়বো। বউ বাচ্চা ঢাকার বাসায় আইতে চাইবো। তাই ঘরবাড়িও করিনা, রিকশাতেই কাটে জীবন।

এমইউ/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]