নিঃস্ব হয়ে পথে পথে ঘুরছেন ফটোগ্রাফার ফরিদ


প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০১৭

অন্য সবার মতো বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই জীবনযাপন করছিলেন ফটোগ্রাফার কাজী ফরিদ আহম্মেদ। জন্মদিন, বিবাহসহ অনুষ্ঠানে ছবি তুলতেন তিনি। এতে করে মাসে কম-বেশি অনুষ্ঠানেই ডাক পেতেন তিনি। আর এসব অনুষ্ঠানে ছবি তুলে যা আয় হতো তা দিয়েই লেখাপড়াসহ সংসার চলতো তার। কিন্তু, ফরিদের এই স্বচ্ছল জীবনযাপন কিছু মানুষের চোখে লেগে যায়। এরপর এক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ফরিদ।

ঘটনাটি গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বরের। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছবি তোলার কথা বলে ফরিদ ও তার সহকারী রাশেদ হাসানকে মিরপুর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের ১০৩ নম্বর বাসার নীচ তলার বাম পাশের ফ্লাটে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক।

সেখানে যাওয়ার পর মেহেদী হাসান, শেখ রুবেল, সানি জিম, পারভেস আহম্মেদ অপুসহ আরো ২-৩ জন তাদের রুমের ভেতর আটক করে বলে তোরা অপহরণ হয়ে গেছিস। এসময় তাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের ভয় ভীতি দেখায় এবং মারধর করে।

এসময় তারা ফরিদের সঙ্গে থাকা একটি ক্যানন ৫ডি মাক থ্রি ক্যামেরা, সঙ্গে থাকা ২৪-১০৫ লেন্স, ফ্লাস ও ব্যাটারি, এলইডি লাইট ও ক্যামরার ব্যাটারি এবং দুইটা ৩২ জিবি মেমোরি কার্ড নিয়ে নেয়। এছাড়াও তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয়।

এরপর দুর্বৃত্তরা এক নারীর সঙ্গে তাদের দুজনের উলঙ্গ ছবি তোলে। এরপর ওই নারীর সঙ্গে তাদের আলাদা ছবি তুলে রাখে। এসময় তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৩শ টাকার অলিখিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয় এবং বিষয়টি কাউকে জানাইলে তারা আমাদের ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায় এবং ওই বাসা থেকে বের করে দেয়।

এ বিষয়ে কাজী ফরিদ আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১৯/৭১০।

তিনি বলেন, মামলা করার সময় ৫ জনের নাম-ঠিকানা, ছবি এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দিয়েছি। তারপরও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। শুনেছি তারা স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উঠা-বসা করে। তাই হয়তো পুলিশ তাদের ধরছে না এবং আমার মালামালও উদ্ধার করে দিচ্ছে না।

ফরিদ বলেন, গত চার মাস ধরে আমি খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। আমার উপার্জনের ক্যামেরাটি দুর্বৃত্তরা নিয়ে নেয়ার পর থেকে আমি বেকার হয়ে পড়েছি। পুলিশ একটু আন্তরিক হলেই আমার মালামালগুলো উদ্ধার করে দিতে পারে।

এক পর্যায়ে ফরিদ অসহায় হয়ে জাগো নিউজের এই প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন পুলিশকে তার মালামালগুলো উদ্ধার করতে তৎপর হওয়ার জন্য।

এ ব্যাপারে কথা বলতে পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কামাল হোসেনের নম্বরে কল করলে তিনি রিসিভ করেন নি। পরে তার অফিসিয়াল নম্বরে পরিচয় দিয়ে মেসেজ পাঠালেও তিনি ফিরতি কোনো উত্তর দেন নি।  

এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।