মজুদ হচ্ছে ছোলা-মসুর


প্রকাশিত: ০৭:১৭ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৭

সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হতে এখনও প্রায় আট সপ্তাহ বাকি। পবিত্র এ মাসে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ছোলা, ডাবলি, খেসারি ও মসুর ডাল সরবরাহ করতে ইতোমধ্যে তা মজুদ করতে শুরু করেছেন আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে কম মূল্যে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন আগের মজুদ করা এসব পণ্য।

রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের আমদানি করা পণ্য নষ্টের আশঙ্কায় ছাড় দিয়ে তারা বিক্রি করছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই রমজানের নিত্যপণ্য। একই সঙ্গে রমজান সামনে রেখে নতুন পণ্য আমদানি করছেন তারা। ফলে বাড়ছে এলসি খোলার পরিমাণ।

তাদের ভাষ্য, বর্তমানে যেসব পণ্য বাজারে রয়েছে, তা আগের এলসি করা। রমজান আসতে আরও আট সপ্তাহ বাকি। এ সময় মজুদ পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছুটা ছাড় দিয়ে তা বাজারে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে গত এক মাসের ব্যবধানে ছোলার মূল্য কেজিপ্রতি কমেছে ৫-১০ টাকা।

রাজধানীর পাইকারি বাজার রহমতগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ৭৪-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ৬৮-৭০ টাকা। খেসারি ৬৫-৬৬ টাকা, ডাবলি ৩২ টাকা, মুগ ডাল ৯২-৯৫ টাকা এবং মসুর ডাল মানভেদে ৯৮ থেকে ১০৩ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে একই বাজারে তিন থেকে ছয় টাকা বেশি দরে খুচরা বিক্রি করছেন ক্রেতারা।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শফি মাহমুদ বলেন, দেশে মসুর ডালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে রমজানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে ছোলার। এছাড়া ডাবলি ও খেসারির চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা রমজান সামনে রেখে এখন থেকেই পণ্য আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি করছেন। তারা আগের মজুদ বিক্রি করে দিচ্ছেন। কারণ রমজান আসতে আরও আট সপ্তাহ বাকি। পুরান ছোলা কালো হয়ে গেছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা কিছুটা ছাড় দিয়ে তা বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, ছোলা, ডাবলি ও খেসারি- এ তিন পণ্যের ৬০-৭০ শতাংশ চাহিদা থাকে রমজান মাসে। তাই রমজানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। এছাড়া আমরা যখন এলসি বেশি করি তখন আন্তর্জাতিক বাজারে দামও বেড়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়ান না।

‘বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। রমজানের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এখন থেকেই মানসম্পন্ন পণ্য আমদানির পদক্ষেপ নিতে হবে। রমজানে যখন চাহিদা বাড়ে তখন বাজারে কম মূল্যে পণ্য ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখি বাজারে যখন চাহিদা বাড়ে তখন সরকার পণ্য আমদানির পরিকল্পনা করে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’- বলেন শফি মাহমুদ।

‘দেশে ডাল মজুদ রাখার মতো মানসম্পন্ন গুদাম নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিন মাসের বেশি সময় ডাল দেশে মজুদ রাখা যায় না। পোকায় ধরে অথবা কালো হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে ছয় মাসেও নষ্ট হয় না।’ ডাল মজুদে গুদাম নির্মাণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বাৎসরিক ডালের চাহিদা ৩৫-৪০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র ৫-৭ লাখ মেট্রিক টন। বাকি ডাল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয়।

এদিকে রমজান সামনে রেখে এখন থেকেই ডাল আমদানির জন্য এলসি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মোট ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১৩ হাজার মেট্রিক টন। যার মূল্য সাত লাখ ৪২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে মসুর ডাল এলসি করা হয়েছে ৬ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। যার মূল্য চার লাখ ৪৭ হাজার ৭০০ ডলার। ছোলার এলসি হয়েছে দুই হাজার ১০০ মেট্রিক টন। যার মূল্য এক লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। আর অন্যান্য ডালের এলসি হয়েছে চার হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।

এসআই/এমএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।