হাওরে গবাদি পশুর খাদ্য সংকটও চরমে


প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৭

দিন যাচ্ছে হাওরের দুঃখ যেন বাড়ছেই। অকালে হাওর এলাকা তলিয়ে সর্বশ্বান্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষ। সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও এখন ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। খোলাবাজারের চাল কিনতে নাম লেখাচ্ছেন ধনী-গরিব সবাই।

ত্রাণসহায়তা পেয়ে আপাতত প্রাণে বাঁচছেন দুর্গত অঞ্চলের মানুষ। তবে কোনো মতে মানুষের খাবার জুটলেও গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগির খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সব এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং ধান কাটতে না পারায় গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগির খাবার জোগানে চরম হিমশিম খাচ্ছে এ এলাকার মানুষ।

দুর্গত মানুষেরা বলছে, খাদ্যের অভাবে গরু-ছাগল বাঁচাতে না পারলে দুঃখ দীর্ঘমেয়াদি হবে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর জীবন বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

শনির হাওরের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, ১১ বিঘা ধান পানির নিচে। চারটি গরু ছিল। খাবার নেই। ধান পেলে তো গরুর খাবার হতো। উপায় না দেখে তিনটি গরু সস্তায় বিক্রি করেছি। আমার মতো অনেকেই গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর বাজার বণিক মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি রতন গাঙ্গুলী বলেন, মানুষ নিজে বাঁচবে না গবাদি পশু বাঁচাবে? সবই তো গেছে। ধান-মাছ কিছুই তো পাবে না মানুষ। মানুষ তো লাইনে দাঁড়িয়ে সামান্য ত্রাণ নিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন। গবাদি পশু তো লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে পারছে না।

তাহিরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, মানুষের ত্রাণের পাশাপাশি গুরু-ছাগলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাবার সহায়তা চাইছি। গবাদি পশুগুলো রক্ষা করতে না পারলে এ অঞ্চলের মানুষ আরও নিঃস্ব হয়ে পড়বে। সস্তা দামে অনেকেই গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর তিন মাস সময় পেলে ভালো দাম পাওয়া যেত।

গওহার নইম ওয়ারা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন। ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি পরিচালক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত।

তিনি বলেন, গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশুগুলো খাবার পেয়ে বেঁচে থাকলে কোরবানির সময় ভালো দাম পাবে অভাবী মানুষ। এক বছর হয়তো গবাদি পশুগুলো বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে খাবার দিয়ে তিন মাস বাঁচানো সম্ভব হবে। তিন মাস পর কোরবানির ঈদ।

তিনি বলেন, যারা দুর্যোগ নিয়ে কাজ করেন, তারা মনে করেন শাড়ি, লুঙ্গি, চাল, ডাল বিতরণ করলেই হবে। কারও মাথায় আসে না গোখাদ্যেরও দরকার আছে। গোখাদ্যের অভাবে ৫০ হাজার টাকার গরু ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। ফকির হয়ে যাচ্ছে।

এএসএস/এমআরএম/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :