রমজানের প্রভাবে বইমেলায় বিকেলে ভিড় কম, ছুটির দিনে বিক্রি বেড়েছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬
বইমেলায় বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম/ছবি: মাহবুব আলম

অমর একুশে বইমেলার আজ ছিল চতুর্থ দিন। এবারের বইমেলা রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। বিশেষ করে ইফতারের আগের সময়টায় মেলা প্রাঙ্গণে স্বাভাবিক দিনের মতো ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি।

রোববার (১ মার্চ) সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকে মেলায় মানুষের উপস্থিতি ছিল সীমিত। বেশকিছু স্টলে বিক্রেতাদের বসে থাকতে দেখা যায়। তবে বিকেলের শেষ ভাগে এবং সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দলবেঁধে বিভিন্ন স্টল ঘুরে বই দেখা, নতুন প্রকাশনা খোঁজা এবং ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাদের।

মেলায় আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রোজার কারণে বিকেলে মেলায় আসছেন তারা। ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে স্টল ঘুরে বই কেনাকাটা করছেন।

jagonews24

মেলায় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বিক্রেতা জানান, রোজার কারণে দিনে বিকেলের বিক্রি কিছুটা ধীরগতির থাকলেও শুক্রবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং বিক্রিও সন্তোষজনক হয়েছে। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্টলে ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি।

এদিকে আজকের মেলার সময়সূচি ছিল দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ৪২টি।

বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: হামিদুজ্জামান খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেন আইভি জামান এবং সভাপতিত্ব করেন ঢাবির ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম।

jagonews24

নাসিমুল খবির বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণে পরিণত পর্বে হামিদুজ্জামান খান ধাতব উপকরণের পাশাপাশি কাঠ, পাথর, প্লাস্টিক, কাচ ও কংক্রিটসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করেছেন। নির্মাণসংখ্যা, উপকরণ ও গড়নের বৈচিত্র্য এবং উপস্থাপনায় অভিনবত্বে তার কাজ সমসময় ও ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক ধারার ভাস্কর্যচর্চার পথিকৃৎ নভেরা আহমেদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাস্কর্যচর্চার সূচনাকারী অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের উত্তরসূরি হিসেবে হামিদুজ্জামান খান অর্ধশত বছর ধরে বিস্তৃত শিল্পসম্ভার রচনা করেছেন। জীবনাবসানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি কর্মমুখর ছিলেন এবং শিক্ষক হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের বহু শিক্ষার্থী তার সংস্পর্শে এসেছেন।

jagonews24

আইভি জামান বলেন, শিল্পী হামিদুজ্জামান খান সৃষ্টিশীলতার মাঝেই সবসময় নিমগ্ন ছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তার সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে আছে, যা তাকে দীর্ঘকাল মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখবে।

লালারুখ সেলিম বলেন, দেশে ভাস্কর্য শিল্প প্রতিষ্ঠিত করতে তার (হামিদুজ্জামান খান) প্রয়াস ছিল লক্ষণীয়। মূর্ত ও বিমূর্ত-দুই ধারায়ই তিনি কাজ করেছেন; তার কাজের পরিধি ছিল ব্যাপক।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন এবিএম সোহেল রশিদ।

বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ইউসুফ রেজা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ফারহানা পারভীন তৃণা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজগর আলীম, আবু বকর সিদ্দিক, নারায়ণ চন্দ্র শীল ও সামীমা সুলতানা। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন সঞ্জয় দাস (তবলা), রবিনস চৌধুরী (কী-বোর্ড), মো. হাসান আলী (বাঁশি) ও অনুপম বিশ্বাস (দোতারা)।

এফএআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।