‘পেডের ক্ষুধা তো আর মে দিবস বুঝে না’


প্রকাশিত: ০৭:২৯ এএম, ০১ মে ২০১৭

রাজধানীর পলাশী মোড় থেকে ধীর গতিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন আনুমানিক ৬০ বছরের বৃদ্ধা রুপজান বেগম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন তিনি। হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে খুব ক্লান্তও দেখাচ্ছিল। একটু সামনেই আজিমপুর মোড়ে ফুটপাতে দিনমজুরের কাজের জন্য দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন কয়েকজন মহিলা। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সকালে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

রুপজান বেগম নামে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একজন দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক। কাকডাকা ভোর থেকে পলাশী এলাকার রাস্তাঘাটে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।

আজ ১ মে মহান ‘মে দিবস’ তা জানেন কি না বলতেই বৃদ্ধার হেসে বলেন, ‘বাবুরে, মে দিবস জাইন্যা আমি কী করুম, আমি তো কাম না করলে ট্যাহা পামু না। ট্যাহা না পাইলে খামু কী।’

ছবি তুলতে চাইলে বৃদ্ধা আপত্তি করে বলেন, ‘আপনারা খালি ছবি তুলেন, আমাগো তো কোনো লাভ হয় না। দেন অহন কিছু ট্যাহা দেন।’ - বলেই আবারও হেসে ফেলেন তিনি।

Helpar

আজিমপুর টেম্পোচালকের হেলপার এক শিশুর কাছে মে দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে অবাক দৃষ্টি তাকিয়ে থাকে সে। আজ তো ছুটি, কাজ করছো কেন? -বলতেই তার জবাব, ‘কামে না আইলে আমারে ট্যাহা দিব কেডা।’ এ কথা বলেই আবারও উচ্চস্বরে ‘অ্যাই হাজারিবাগ, বিডিআর’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

মোড় থেকে একটু সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা দিনমজুরদের সামনে যেতেই কয়েকজন এগিয়ে এসে বলতে থাকেন, ‘সাহেব লোক লাগবো নাকি, কোনহানে, আমারে লইয়া যান।’

তাদের মধ্য থেকে চল্লিশোর্ধ সখিনা বেগম জানান, অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন কাজে আসতে পারেননি। আজ (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে কাজ পাওয়ার আশায় অপেক্ষায় করছেন।

Laber

মে দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক নেতার মাধ্যমে মে দিবসের তাৎপর্য শুনেছি। মে দিবস সম্পর্কে আমি জানলে কী হইবো, পেডের ক্ষুধা তো আর মে দিবস বুঝে না। কাম না পাইলে না খাইয়া থাকতে হইবো, তাই কাজের অপেক্ষায় রইছি।’

‘কামে নিলে কথা কন, না হইলে যান’ -বলে এগিয়ে যান সখিনা বেগম।

এমইউ/আরএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।