নতুন পাঞ্জাবির পসরাতেও জমেনি পীর ইয়ামেনী মার্কেট
ঈদ মানেই খুশি। ঈদ কেনাকাটায় সবার উপরে থাকে বাহারি সব পাঞ্জাবি। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর দোকানগুলো এবারও সাজিয়েছে পাঞ্জাবির পসরা। তবে মন ভালো নেই অনেক ব্যবসায়ীর। ১৩ রমজান যাচ্ছে তবুও কেনাকাটা জমেনি রাজধানীর বৃহত্তম পাঞ্জাবির বাজার গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেটে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার জাতীয় বাজেট নিয়ে অসন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। তারই যেন টান পড়েছে বাজারে। একই সময় গত রমজানে কেনাকাটার ধুম পড়ে গেলেও এবার তার যেন ছিটেফোঁটাও নেই।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এই সপ্তাহেই জমে উঠবে পীর ইয়ামেনী মার্কেট। কেনাকাটায় ঈদের আবহ তৈরিতে নানা কাজ করছেন তারা।
শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের তিনতলা জুড়ে পাঞ্জাবির বিশাল সমাহার। মোট ১০৯টি পাঞ্জাবির দোকানই রয়েছে মার্কেটটিতে। মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, সবারই পছন্দের মার্কেট এটি। কারণ এখানে মোটামুটি সুলভমূল্যেই পাঞ্জাবি বিক্রি হয়।

রাজধানীর গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে পীর ইয়ামেনী মার্কেটে ব্যবসায়ীরা সাজিয়েছেন দেশি-বিদেশি পাঞ্জাবির পসরা। বাহারি রঙ, নতুন ডিজাইন আর কারুকাজ করা পাঞ্জাবিতে সাজানো হয়েছে বিপণি বিতানটি। পাঞ্জাবি যেন হয়ে উঠেছে ডিজাইনারের সাদা ক্যানভাস। পাঞ্জাবির সংগ্রহে থাকছে নতুন নকশা, নতুন রং। কাটিংয়েও এসেছে পরিবর্তন, বাজার দখল করে আছে শর্ট আর সেমি লং পাঞ্জাবি।
পীর ইয়ামেনী মার্কেটে বেশিরভাগ পাঞ্জাবি ভারতীয় ব্র্যান্ডের। ঈদের পাঞ্জাবির কাপড়ের মধ্যে রয়েছে মটকা, সুতি, রাজশাহী সিল্ক, আদি, মহিশুর সিল্ক, এনডি সিল্ক, প্রিন্স সামসী, ক্রুশান, কাসিস, খানশা, শাহজাদা আদি, জয়শ্রী সিল্ক, এনডি কটন, ইন্ডিয়ান সিল্ক, জাপানি ইউনিটিকা, তসর, সামু সিল্ক, ধুতিয়ান, ইন্ডিয়ান চিকেনসহ বিচিত্র সব পাঞ্জাবি। এসব পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৩০০ থকে ১২ হাজার টাকা।
এর মধ্যে শর্ট পাঞ্জাবি ৬০০ থেকে এক হাজার, তসর এক হাজার ২০০, ইন্ডিয়ান চিকেন এক হাজার ৫০০, জাপানি ইউনিটিকা তিন হাজার, জলছাপা এক হাজার ৭৫০, ধুতিয়ান দুই হজার ৯০০, প্রিন্স সামসী চার হাজার, লংলা পাঞ্জাবি তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। পাকিস্তানি কাবুলি সেটের দাম পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

পাঞ্জাবিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও। যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য পাঞ্জাবি মিলছে মার্কেটটিতে। সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার পাঞ্জাবি মিলছে মার্কেটটিতে। এবার গরমের কারণে হালকা রঙের সুতি পাঞ্জাবির দিকেই তরুণদের ঝোঁক বেশি থাকবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
পীর ইয়ামেনী মার্কেটের ক্ল্যাসিক পাঞ্জাবি ফ্যাশনের বিক্রেতা ওমন ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, তুলনামূলকভাবে এবার ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম মার্কেটে। বিক্রেতাদের হাকডাকেও যেন সাড়া মিলছে না। যারাও বা আসছেন তাদের সবাই আবার কেনাকাটাও করছেন না। দাম দর করে ফিরে যাচ্ছেন। হয়তো আরও ৪/৫ দিন সময় লাগবে মার্কেট জমতে।
মায়ের দোয়া পাঞ্জাবি বিতানের মালিক মোখলেছুর রহমান বলেন, গেতবারের তুলনায় এবার কেনাবেচা কম। বুঝতেছি না ক্রেতাদের কি হলো। এমনটা গত ১০ বছরেও দেখি নি।

প্রিয়া ফ্যাশনের মালিক আকরাম হোসেন মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ক্রেতার সমাগম একটু বাড়লেও ঈদ কেনাকাটার ধাচেই পড়ে না। নতুন নতুন সব বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবির কালেকশন রয়েছে এবার মার্কেটে। দামও থাকছে সাধ্যের মধ্যে।
পীর ইয়ামেনী মার্কেটের দোকান-মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ইন্ডিয়া ভিসা ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় উচ্চবিত্ত তো বটেই। মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষও এখন ভারতে গিয়ে বেশি দামে কেনাকাটা করছে। ভারতে কেনাকাটা যেন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমরা হোলসেল ও পাইকারি রেটে কিনে দেশে তুলনামূলক কম লাভেই বিক্রি করছি।
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ২০০১ সালের পর এবারই প্রথম মধ্য রমজানে ক্রেতা শূন্যতায় ভুগছে মার্কেট। এজন্য জাতীয় বাজেট অনেকাংশে দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেইউ/এআরএস/পিআর