উষ্ণতার হাত বাড়াও উত্তরে

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক লালমনিরহাট থেকে
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

তাপমাত্রার পারদ কোথায় ঠেকছে, উত্তরের মানুষ তা হয়তো ঠিক টের পাচ্ছে না। হিম হয়ে থাকা শরীর টের পাবেই বা কী করে! তবে তাপমাত্রার পারদ যে ঊর্ধ্বমুখী হতে ভুলে গেছে তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই। এ মুল্লুকে সূর্য উঠছে না। মধ্যদুপুরে খানিক উঁকি দিলেও সে সূর্যে উত্তাপ থাকছে না।

হিমালয়ের বরফগলা হাওয়া কাঁপিয়ে তুলেছে উত্তরের জনপদ। আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। চলমান শৈত্যপ্রবাহ রীতিমতো দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে উত্তরের জেলায়। আর হাড় কাঁপানো অতিঠান্ডা অভিশাপ হিসেবেই দেখা দিয়েছে দুস্থ-অসহায়দের কাছে।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হলেও এখানে রাষ্ট্র যেন উদাসীন। বিগত দিনের ন্যায় দায়সারা গোছের কার্যক্রম চালালেও রেকর্ড তাপমাত্রার শৈত্যপ্রবাহ মেকাবেলায় প্রশাসন এখনও পর্যন্ত বিশেষ কোনো তৎপরতা দেখায়নি। বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে মানুষের পাশেও দাঁড়াতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে।

winter

তবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ অবশ্য শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরের জেলাগুলোতে প্রায় তিন লাখ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

অতিবন্যা এবারে দুঃখ বাড়িয়েছে উত্তরের মানুষদের। ধান, পুকুরের মাছ সবই খেয়ে গেছে বন্যা। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই রাস্তার ওপর বাস করছেন। সহায়-সম্বলহীন মানুষেরা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই শীতের ঝাপটা। আর তাতে যেন অন্ধাকার নেমে এসেছে উত্তরে।

তাপমাত্রা নামতে নামতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঠেকেছে। এ দিন পঞ্চগড়ে অন্তত তাই জরিপ করেছে আবহাওয়া অফিস। ৩, ৪, ৫ এর ঘরে অন্য জেলার তাপমাত্রা। ঘনকুয়াশার সঙ্গে পশ্চিমা হাওয়া। কিছুতেই যেন দোহাই মানছে না শীতের তীব্রতা। শরীর ভেদ করে হাড় কাঁপিয়ে তুলছে পৌষের ঠান্ডা। আগাম প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। শিশু এবং বয়স্করা আরও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

cold5

কথা হয়, লালমনিরহাট হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা ইয়াসিনের সঙ্গে। বলেন, ‘গেল বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে রাস্তার ওপরে একটি ঘর তুলে কোনোমতে বসবাস করছি। তবে ঠান্ডায় প্রায় কুপোকাত। এমন ঠান্ডা আমার বয়সে দেখিনি। কুয়াশার সঙ্গে বাতাস! বাইরে বেরুনোর জো নেই। এসব দেখারও কেউ নেই। কে কম্বল দেয়, আর কে পায়, তার খবরও মেলে না আমাদের কাছে।’

উত্তরের জেলাগুলোয় বিতরণকৃত তিন লাখ কম্বল যথেষ্ট কিনা-তা জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বলেন, এটি যথেষ্ট নয়। এবারে বন্যায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এ অঞ্চলের। এরপর এমন শীত আসবে তা হয়তো কেউ ধারণা করতে পারেনি। আমরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আরও কম্বল চেয়ে চিঠি দিয়েছি।

শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে কম্বল কী উপকারে আসবে-এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের এ কর্মকর্তা বলেন, আরও দুটি শৈত্যপ্রবাহ সামনে আছে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ কারণেই আগাম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

cold5

পাতলা কম্বলে শীত মানছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবারে মোটা কম্বলের জন্য চিঠি দিয়েছি।’

রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, শৈত্যপ্রবাহে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাভিত্তিক ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে যে পরিমাণ কম্বল দেয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, শীতার্তদের মাঝে ইতিমধ্যে ৩২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্র চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

রবিউল হাসান/এএসএস/এএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।